নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র এক সদস্যের অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহক পরিবারগুলির প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়ে যে ফল মিলেছে, তাতে মোটেও সন্তুষ্ট নয় রাজ্য খাদ্যদপ্তর। প্রকৃত প্রাপক না হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই অন্ত্যোদয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করে দপ্তর। তাই নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনা কীভাবে করতে হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
অন্ত্যোদয় শ্রেণির রেশন গ্রাহকদের পরিবারভিত্তিক খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়। যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের রেশন সংক্রান্ত অন্যান্য প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে মাথাপিছু খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ হয়। অন্ত্যোদয়ের ক্ষেত্রে পরিবার পিছু ৩৫ কেজি করে চাল-গম দেওয়া হয়। পরিবারে যত জন সদস্য থাকুক না কেন, এই পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ হলে তবেই এই শ্রেণির আওতায় আসার কথা। রাজ্য খাদ্যদপ্তর বেশ কয়েক মাস আগে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখে, রাজ্যে মোট ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহক পরিবার রয়েছে, যেখানে মাত্র একজন করে সদস্য। এমন বহু এক সদস্য বিশিষ্ট পরিবার চিহ্নিত হয়, যেখানে একমাত্র সদস্যের বয়স ১৮ বছরেরও কম। বিষয়টি খাদ্যদপ্তরের কাছে ‘রহস্যজনক’ মনে হয়। তারপরই এই ধরনের এক সদস্যের পরিবারগুলির আদৌ কোনও অস্তিত্ব আছে কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কয়েক মাস ধরে পর্যালোচনার পর একজন সদস্য বিশিষ্ট অন্ত্যোদয় পরিবারের সংখ্যা কমে ৩ লক্ষ ১২ হাজার হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ২৩ হাজার পরিবারকে বাদ দেওয়া গিয়েছে। খাদ্যদপ্তরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত অন্ত্যোদয় পরিবারের কোটা রাজ্যের জন্য ১৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৫২। এর মধ্যে এখন ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৩৬৩টি পরিবার এক সদস্যের। যা মোট অন্ত্যোদয় পরিবারের ১৯ শতাংশ। দেশের কোনও রাজ্যে এত বেশি সংখ্যক এক সদস্যের অন্ত্যোদয় পরিবার নেই! দপ্তর মনে করছে, এরকম এক সদস্যর পরিবারগুলির একটা বড় অংশই আদতে আলাদা পরিবার হিসেবে থাকে না। তারা আসলে অন্য কোনও পরিবারের অংশ। ওই পরিবারগুলি অন্য কোনও রেশন প্রকল্পের আওতায় আছে। ফলে সব মিলিয়ে এই ধরনের পরিবারগুলি অনেক বেশি খাদ্যশস্য পাচ্ছে। তাই এক সদস্যের পরিবারগুলি চিহ্নিত করে তাদের প্রকৃত পরিবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ‘ভুয়ো’ এক সদস্য বিশিষ্ট পরিবার থাকার জন্য বহু প্রকৃত গরিব লোক অন্ত্যোদয় প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর সেকথা মাথায় রেখেই পরিস্থিতির বদল আনতে উদ্যোগী হয়েছে খাদ্যদপ্তর।