নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুক্রবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-আমতা শাখার দক্ষিণবাড়ি স্টেশনের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। মৃতার নাম মিন্টু গেড় (৪২)। বাড়ি হুগলির চণ্ডীতলা থানার কানাইডাঙা ঘেরপাড়া এলাকায়। পারিবারিক অশান্তির জেরেই ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। ট্রেনে কাটা পড়ার পর এদিন প্রায় দুপুর পর্যন্ত রেললাইনেই গৃহবধূর দেহ পড়ে থাকে বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় থানার পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটের আমতা-হাওড়া লোকাল দক্ষিণবাড়ির দিকে আসছিল। ট্রেনটি স্টেশনের কাছাকাছি আসতেই ওই মহিলা আচমকা রেললাইনে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দেহ। দৌড়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় রেল পুলিশকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ওই মহিলার স্বামী মানিক গেড় পেশায় দিনমজুর। পরিবারে অভাব অনটনের কারণে প্রায়দিনই ঝগড়া অশান্তি লেগে থাকত। এদিন সকালেও তাঁদের মধ্যে বচসা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৃহবধূর দেহ ওই অবস্থায় রেললাইনের উপর পড়ে থাকে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, দেহ উদ্ধার কে করবে, তা নিয়ে জিআরপি ও স্থানীয় দুই থানার মধ্যে দড়ি টানাটানি চলে। মূলত ওই এলাকাটি ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর থানার সীমানার মধ্যে পড়ায় দেহ উদ্ধার নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিভ্রান্তি তৈরি হয়। শেষমেশ দুপুর ১টা নাগাদ জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। যদিও পুলিশের দাবি, দেরিতে খবর পাওয়ার কারণেই দেহ উদ্ধারে সময় লেগেছে। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেললাইনে এভাবে দেহ পড়ে থাকল। রেল পুলিশের উচিত ছিল, দেহটি উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেওয়া। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক।’ বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘কাগজপত্র তৈরি করতে দেরি হওয়ায় দেহ উদ্ধার করতে অনেকটা সময় লেগেছে। তবে ওই শাখায় ট্রেন চলাচলে কোনও সমস্যা হয়নি।