নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দলীয় কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য হুগলি জেলায় চার ‘নতুন মুখ’কে দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলার নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওই সিদ্ধান্ত শুধুই ইস্যুভিত্তিক, নাকি কোনও দূরবর্তী পরিকল্পনার অঙ্গ, সেটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, শাসকদলের অন্দরেও এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আলোচনা চলছে। হুগলি সাংগঠনিক জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য চারজনকে কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দিলীপ যাদব, সুবীর মুখোপাধ্যায়, রঞ্জন ধাড়া ও বেচারাম মান্না।
রাজনৈতিক মহল বলছে, চারটি নামই জেলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটু ভিন্নধর্মী। দিলীপ যাদবকে কয়েক বছর ধরে কার্যত উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁকে উত্তরপাড়া, চণ্ডীতলা ও জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার দলীয় কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। এরমধ্যে উত্তরপাড়া অভিনেতা-বিধায়ককে ঘিরে ডামাডোল রয়েছে। চণ্ডীতলায় জেলার একমাত্র সংখ্যালঘু বিধায়ক রয়েছেন। জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক নিজেই মন্ত্রী এবং প্রাক্তন জেলা সভাপতি। তৃণমূলের পুরনো আমলের নেতা দিলীপ, জেলা ও রাজ্যস্তরে দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বহু বছর পরে দিলীপ যাদবকে সামনের সারিতে তুলে আনার ঘটনা চর্চার কেন্দ্রে। চণ্ডীতলার নেতা তথা সুবীর মুখোপাধ্যায়কে সম্প্রতি জেলা পরিষদের মেন্টর করে জেলাজুড়ে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই নেতাকে চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর ও চাঁপদানি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুবীরবাবু উচ্চ শিক্ষিত। প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরে সাংগঠনিক ডামাডোল চলছে।
শ্রীরামপুরের দলীয় বিধায়ককে কেন্দ্র করে ঘরে-বাইরে জটিলতা রয়েছে। চাঁপদানির বিধায়ক নিজেই এখন জেলা সভাপতি (সাংগঠনিক)। এই অবস্থায় সুবীরবাবুর মতো সংগঠককে তিনটি হেভিওয়েট বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও চর্চা চলছে। হুগলির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেচারাম মান্না পরিচিত নাম। নিজস্ব আদলে সংগঠন, ভিন্নধর্মী প্রচার পরিকল্পনা, মেঠো রাজনীতির দক্ষতা তাঁকে সব সময় চর্চায় রাখে। তাঁকে তাঁর নিজের বিধানসভা সিঙ্গুরের সঙ্গে চন্দননগর ও ধনেখালির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ধনেখালির বিধায়ক আবার হুগলি সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান। পাশাপাশি জেলার একমাত্র দাপুটে মহিলা মুখ। চন্দননগরের বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বলাগড়, পাণ্ডুয়া ও সপ্তগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়াকে। এই দায়িত্ব পাওয়ার পরেই রঞ্জনবাবু জেলার রাজনীতিতে সামনের সারিতে চলে এসেছেন। তফশিলী ওই নেতা তাঁর ভাগে থাকা বলাগড়ের বিধায়ককে নিয়ে বিব্রত। পাণ্ডুয়া ও সপ্তগ্রামের বিধায়ক জেলার দুই প্রবীণ নেতানেত্রী। কিন্তু সেখানে সাংগঠনিক জটিলতা আছে। সব মিলিয়ে তাঁকেও সামনের সারিতে আনার উদ্দেশ্যকে ঘিরে চর্চা অব্যাহত। চার নেতাই অবশ্য বলছেন, কার্যকারণ দল জানে। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা পালন করাই
আপাতত লক্ষ্য।