নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও চওড়া হচ্ছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সহ ৯ জন আধিকারিককে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেব নিয়োগ করা থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের আরজি খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও একাধিক ইস্যু যেমন, ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে রাজ্যের দুই ইআরও ও এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর, রোল পর্যবেক্ষকের বদলি। বসিরহাটের এক এইআরও-র বিরুদ্ধে অস্থায়ী কর্মচারীকে দিয়ে শুনানি করানোর অভিযোগ। যাবতীয় কিছুর বিরুদ্ধে রাজ্যকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না করে পালটা পুনর্বিবেচনার চিঠি পাঠায় রাজ্য। দফায় দফায় রাজ্যের পাঠানো যাবতীয় আরজি খারিজ করে কমিশন জানিয়ে দিল, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনের এই সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। অনুরোধের সুরে কমিশন মুখ্যসচিবকে জানিয়েছে, কার্যকর করার পর রিপোর্ট পাঠাতে হবে দিল্লিতে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ভিন রাজ্যে যেতে হবে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাসহ ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে। এর আগে বিকল্প নাম পাঠিয়ে রাজ্য অনুরোধ করেছিল, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং অন্য দপ্তরের প্রধানদের এই কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সেই আরজি খারিজ করে দিল কমিশন। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দু’দিনের বৈঠক ও প্রশিক্ষণে তাঁদের যোগ দিতেই হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আইপিএস হৃষীকেশ মিনাকে ৫-৬ ফেব্রুয়ারির বৈঠক ও প্রশিক্ষণ পর্বে যোগ দিতে হবে না। অন্যদিকে, ১০ জন আইপিএস অফিসারের মধ্যে বিকল্প ৮ জন অফিসারের নাম জমা দিয়েছিল নবান্ন। সেটাও খারিজ করেছে কমিশন।
এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করে বুধবার ফের রাজ্য সিইও দপ্তরের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন পার্থ ভৌমিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, পুলক রায় ও স্নেহাশিস চক্রবর্তী।