Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৯৫ হাজার হাতিয়েছেন তৃণমূল নেতা, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সুরাহা

৯৫ হাজার হাতিয়েছেন তৃণমূল নেতা, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সুরাহা
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে জোর করে দখল নেওয়া মাছের ভেড়ির টাকা তৃণমূল নেতার কাছ থেকে ফেরত পেলেন চাষি। ওই চাষি তমলুক মহকুমা শাসকের অফিসের কর্মীও। নন্দকুমার থানার দক্ষিণ নারকেলদা পঞ্চায়েতের চকচাঁদপোতা গ্রামের ঘটনা। নবান্নের নির্দেশে নন্দকুমার থানার ওসি উজ্জ্বলকুমার নস্কর দু’পক্ষকে থানায় ডেকে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সময়ের মধ্যে ওই চাষির প্রাপ্য ৯৫ হাজার ১৩৫ টাকা ফেরত দিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নম্বরে ফোন করে এমন সুবিধা পেয়ে খুশি নন্দকুমারের ওই ব্যক্তি।
Advertisement
২০২৪ সালে নন্দকুমার ব্লকের চকচাঁদপোতা গ্রামে একটি ভেড়ি কাটা নিয়ে সেখানকার চাষিরা প্রবল আপত্তি তোলেন। অনেক চাষির অনুমতি ছাড়াই চাষের জমি কেটে ভেড়ি বানানো হয়। চাষিরা আপত্তি করতেই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা তৃপ্তিরানি সামন্তের দেওর গোবিন্দ সামন্ত গ্রাম কমিটিকে ঢাল করে চাষিদের ‘টাইট’ দেওয়া শুরু করেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা তমলুক এসডিও অফিসে কর্মরত পিডব্লুডি(ইলেক্ট্রিক্যাল) বিভাগের কর্মী বিশ্বজিৎ দরবারকে সামাজিক বয়কট করা হয়। তাঁর বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ নিতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় পিএইচই বিভাগের ট্যাপ থেকেও জল নেওয়া নিষেধ। শ্বশুরের মৃত্যুর পর বিশ্বজিৎবাবু ও তাঁর স্ত্রী নিয়মভঙ্গের আচার পালনের জন্য ব্রাহ্মণকে ডেকেও পাননি। গ্রাম কমিটির মাতব্বরের এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করায় বয়কটের শিকার হন স্থানীয় মল্লিকচক অমরস্মৃতি হাইস্কুলের শিক্ষক প্রবীর মহাপাত্র, তাঁর ভাই পেশায় ব্যবসায়ী সমীর মহাপাত্র।
জোর করে ভেড়ি তৈরি এবং সামাজিক বয়কটের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নম্বরে ফোন করে নালিশ করেছিলেন বিশ্বজিৎ দরবার। তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করার পরই নবান্ন থেকে সরাসরি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের কাছে বিষয়টি দেখভালের জন্য নির্দেশ আসে। সেইমতো নন্দকুমার থানার ওসিকে বিষয়টি ফরোয়ার্ড করা হয়। তার ভিত্তিতে বুধবার বিশ্বজিৎবাবু এবং তৃণমূল নেতা গোবিন্দ সামন্তকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও ভেড়ি লিজে নেওয়া নিমাই বর্মণ এবং তাঁর আরও চারজন ব্যবসার পার্টনার থানায় হাজির হয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, নিমাইবাবুরা প্রত্যেক চাষির জন্য দিলেও সেই টাকা গোবিন্দ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিল। ভেড়ি খননের বাধা দেওয়ার শাস্তি হিসেবে বিশ্বজিৎবাবুকে তাঁর প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভেড়ির ইজারাদার নিমাইবাবু পুলিসের কাছে জানান, বিশ্বজিৎ দরবারের জন্য ৯৫হাজার টাকা গ্রাম কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা পঞ্চায়েত সদস্যার দেওর গোবিন্দের কাছে রয়েছে।
তিন ঘণ্টার মধ্যে ওই টাকা বিশ্বজিৎবাবুকে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন নন্দকুমারের ওসি। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ওই নেতা বিশ্বজিৎবাবুর হকের টাকা দিয়ে দেন। এনিয়ে বিশ্বজিৎবাবু বলেন, আমি তমলুক এসডিও অফিসে পিডব্লুডি বিভাগের এজেন্সি নিযুক্ত কর্মী। আমাকে না জানিয়ে আমার জমি দখল করে ভেড়ি কাটা হচ্ছিল। আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। সেজন্য আমাকে সামাজিক বয়কট করা হয়। আমার জমির জন্য প্রাপ্য টাকা পঞ্চায়েত সদস্যার দেওর কব্জা করে নিয়েছিলেন। শেষমেশ নবান্নের হস্তক্ষেপে টাকা পেয়েছি। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানাই। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা গোবিন্দ সামন্ত বলেন, গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বজিত দরবারের টাকা কমিটির কাছে রাখা ছিল। পুলিস নির্দেশ দিতে সেই টাকা তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ