নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতের শহরে হিট অ্যান্ড রানের ঘটনায় এবার বাগুইআটি থানার পুলিসের তদন্তে অসন্তোষ কলকাতা হাইকোর্টের। সরাসরি ডেপুটি পুলিস কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতের শহরে হিট অ্যান্ড রানের ঘটনায় এবার বাগুইআটি থানার পুলিসের তদন্তে অসন্তোষ কলকাতা হাইকোর্টের। সরাসরি ডেপুটি পুলিস কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ।
গত বছরের সাত ডিসেম্বরের ঘটনা। মামলাকারী শানু দত্তর অভিযোগ, ওই দিন রাত দশটা নাগাদ দমদম থেকে চিনার পার্কের বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁর বাবা সুব্রত দত্ত। সাইকেলে হলদিরাম থেকে চিনারপার্কের দিকে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে কার্যত সুব্রতবাবুকে উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর ওই এলাকায় কর্মরত ট্রাফিক পুলিস তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যান। কিন্তু মাথা ও দেহে গুরুতর আঘাতের কারণে পরেরদিন ভোর তিনটে নাগাদ হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বাগুইআটি থানা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে। কিন্তু মামলাকারীর অভিযোগ, এই ঘটনার পর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়ে বাগুইআটি থানার কাছে লিখিত আবেদন জানান হয়। কিন্তু একাধিকবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও পুলিস ফুটেজ দেখায়নি। আদৌ ঘটনার সময়কালের ফুটেজ সংগ্রহ হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরে এই হিট অ্যান্ড রানের ঘটনার তদন্তের জন্য লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিস এফআইআর দায়ের করতে চায়নি। পরে তা করলেও কার্যত কোনও তদন্তই করেনি। এরপর বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শানু দত্ত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। রাজ্য আদালতে যে রিপোর্ট পেশ করে তাতে কোনও সিসিটিভি ফুটেজের উল্লেখ ছিল না। ওই রিপোর্ট দেখে রীতিমত উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটাই সমস্যা। আগে সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়া তদন্ত হতো না? আসলে তদন্ত করার কোনও ইচ্ছাই পুলিসের নেই। এখনও সেই গাড়িটি খুঁজে পাওয়া গেল না?’ এরপরই এই ঘটনায় বাগুইআঁটি থানার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি পুলিস কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে
রিপোর্ট পেশের নির্দেশও দেন বিচারপতি ঘোষ।