Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্টলে গেলেই ইলিশ, নকশাকাটা বোতলও! মেলায় নিত্যনতুন আকর্ষণ... এ বই অবশ্য সে বই নয়

সকাল থেকে অনেক কাজ। তা শেষ করে মুখে চাট্টি গুঁজে দুপুর দুপুর বইমেলার মাঠে উপস্থিত জয়ন্তবাবু। পিছনে গিন্নি। সামনে ছেলে।

স্টলে গেলেই ইলিশ, নকশাকাটা বোতলও! মেলায় নিত্যনতুন আকর্ষণ... এ বই অবশ্য সে বই নয়
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শোভন চন্দ, কলকাতা: সকাল থেকে অনেক কাজ। তা শেষ করে মুখে চাট্টি গুঁজে দুপুর দুপুর বইমেলার মাঠে উপস্থিত জয়ন্তবাবু। পিছনে গিন্নি। সামনে ছেলে। সে বাবার ব্যাগটা রথের মতো টেনে নিয়ে চলেছে। তার ডাকনাম বিল্টু। মেলার মধ্যে অত লোকের সামনে এই নামে ডাকলে সে রাগ করে। তাকে ডাকতে হয় তার ভালোনামে। লিটল ম্যাগাজিনের গা ঘেঁষে ফুড কোর্ট পেরিয়ে জয়ন্তবাবুরা ঢুকলেন স্টলে। ছেলের আবদার মেটাতে অর্ডার করলেন, ‘আমায় ঝুড়ি থেকে দু’টো ইলিশ দিন। একটা বোতলও দিন।’

Advertisement

বিল্টুর আবদার কি অবাক করল? অবাকের কিছু নেই। স্টলে গেলে ইলিশ পাবেন, বোতলও। সেগুলি কিন্তু বই। ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা আস্ত ইলিশের মতো অবিকল দেখতে বই। নাম, ‘ইলিশে আনন্দ’। একটু দূরে তাকে রাখা আকর্ষণীয় আর একটি বই। নাম, ‘বোতল পুরাণ’। আরও আছে। রয়েছে দড়ি দিয়ে বাঁধা লাল রঙের দস্তাবেজ, ‘বই বউ বইমেলা’। এই বইটি সম্পূর্ণ হাতে লেখা। বের করেছে লালমাটি প্রকাশন। কয়েকবছর আগেই লীলা মজুমদারের ‘পদি পিসির বর্মিবাক্স’কে সুদর্শন লাল বাক্সের মোড়কে বন্দি করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল লালমাটি। এবার তারা শুধু নয়, প্রতিক্ষণ, খড়ি, উদ্বোধন, শিশু সাহিত্য সংসদ সহ একাধিক লিটল ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ বইয়ের আকার ও আকৃতি নিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়া করেছে। সে সব কিনতে ভিড় চোখে পড়ার মতো। এ ছেড়ে একটু এগলে মন খারাপ। এবার বইমেলায় নেই বাংলাদেশ।

এবার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির দৌলতেও নজর কেড়েছে বহু স্টল। থিমের বাহার, সুদর্শন স্টল, বিখ্যাত লেখকদের ছবি আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে সাধারণত। এবার আর একটি আকর্ষণ, ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যার উল্লেখ। বুক ফার্ম প্রকাশনা বড়ো বড়ো করে লিখেছে, ‘ফেসবুকে ১ লক্ষ ২০ হাজার প্লাস ফলোয়ার্স।’ প্রকাশকদের একাংশ বললেন, ‘লেখকের ভালো সংখ্যক ফেসবুক ফলোয়ার থাকলে বই ভালো কাটে। এই করেই এখন অনেক লেখক হিট।’

অনেকের পাণ্ডুলিপি হয়ত বই হয়ে জন্ম নিতে পারেনি। তাঁদের মন খারাপ। মেলার মাঠে দূরে কোনও প্রতিষ্ঠিত লেখককে নিজের বইয়ে সই করতে দেখে আপসোস আনকোরা লেখকের। তিনি মনে মনে নিজেকে বলেছেন, ‘পরেরবার পাশা উল্টে দেব।’ পরেরবার তাঁরও বইপ্রকাশ হোক। পরেরবার তাঁর মতো সবার বই বেরোক। বইমেলার প্রাণে আরও একটু জীবন ঢালুন নয়া লেখকরা। পাঠকরা আবেগ ঢেলে সেসব পড়বেন। এই শুভ কামনা সকলের জন্য।

কিছু উত্তেজনা, খানিক মনকেমন, বাকি থাকা প্রেম, কিছু ফেলে আসা বন্ধুর দেখা আর ভালোলাগার বই উল্টেপাল্টে দেখা। এত সব নিয়ে বইমেলায় অহরহ তৈরি হয়ে চলে রংবেরঙের ছবি। কেনাকাটার ফাঁকে সে ছবিগুলি দেখতে না পেলে মেলা ঘোরা সম্পূর্ণ হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ