সংবাদদাতা, বনগাঁ: একটা সময় ছিল, যখন পুজো মানেই শব্দবাজির দাপটে অতিষ্ঠ হতে হতো। শব্দবাজির যথেচ্ছ ব্যবহার আটকাতে পুলিশকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতো। তবে এবার পুজোয় বনগাঁজুড়ে সেই ছবি প্রায় অমিল থাকল। দেখা গেল না শব্দবাজির দাপট। কিছু শব্দবাজি ফাটার আওয়াজ কানে এলেও তা গত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই কম বলে জানাচ্ছেন শহরবাসীরাই। এর জন্য পুলিশকেই কৃতিত্ব দিচ্ছে বনগাঁবাসী। পুজোয় শব্দবাজি রুখে দিয়ে বনগাঁর বাসিন্দাদের কাছে আপাতত পুলিশই ‘হিরো’।
পুজোয় শব্দবাজি রুখতে আগে থেকেই প্রচার চালিয়েছিল বনগাঁর পুলিশ- প্রশাসন। বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করতে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হয়। বেশ কয়েকজন অবৈধ বাজি বিক্রেতাকে পুলিশ গ্রেফতারও করে। পুলিশের এই তৎপরতাই পুজোয় শব্দবাজির দাপট রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন হয়েছে।’ বনগাঁর বাসিন্দা তথা শিক্ষক সুবীর সরকার বলেন, ‘মানুষ তো সচেতন হয়েছে বটেই, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক তৎপরতা ভালো প্রভাব ফেলেছে।’
তবে এবার পুজোয় লক্ষ্য করা গিয়েছে আরও একটি প্রবণতা। পুজো মানে কচিকাঁচারা ক্যাপ বন্দুকে মজে থাকবে—এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত ছিল সবাই। কিন্তু এখন হাতে হাতে মোবাইল ফোনের দৌলতে ম্লান হয়ে এসেছে সেই চিরাচরিত খেলনা পিস্তলের জৌলুসও। ছোটরাও হাতে স্মার্টফোন নিয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত!