Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সঙ্গী সামুদ্রিক জলীয় বাষ্প থেকেই উত্তর ভারতে অতিবৃষ্টি, আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ

এবারের বর্ষা মরশুমের দেশের একটা বড় অংশ জুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। নানা জায়গায় বন্যাও হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে।

পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সঙ্গী সামুদ্রিক জলীয় বাষ্প থেকেই উত্তর ভারতে অতিবৃষ্টি, আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবারের বর্ষা মরশুমের দেশের একটা বড় অংশ জুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। নানা জায়গায় বন্যাও হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে। উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে তো একাধিক দফায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ে অতিবৃষ্টির প্রভাবে নদীর বিপুল জলরাশি নেমে প্লাবিত করেছে পাঞ্জাবের সমতল এলাকাও। দেশজুড়ে বিশেষ করে উত্তর ভারতের পাহাড়ি অংশে প্রবল বৃষ্টির কারণ কী? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার বর্ষাকালে একের পর এক পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হানা দিয়েছে পশ্চিম হিমালয় এলাকায়। কেন বেশি সংখ্যায় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এসেছে। তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এর সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তনের কোনও সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও তাঁরা মনে করছেন। 

Advertisement

ঝঞ্ঝার জন্য বৃষ্টি কেন বেশি হচ্ছে? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমি  ঝঞ্ঝা এলে পাহাড়ের  বাতাস তুলনামূলকভাবে শুষ্ক ও শীতল হয়। কিন্তু এইসময় সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস এসে তার সঙ্গে  মিশ্রিত হলে উঁচু পাহাড়ি এলাকায়  শক্তিশালী মেঘপুঞ্জ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুটি বাতাসের চরিত্র বিপরীতধর্মী। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস গরম। অন্যদিকে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার বাতাস শীতল। এই দুই ধরনের বিপরীত ধর্মীয় জলীয় বাষ্প মিশে উঁচু পাহাড়ে ধাক্কা খেলে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি বা ক্লাউডবার্স্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে দুটি থেকেই জলীয়বাষ্প উত্তর ভারতের দিকে যায়। মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান এবার সমুদ্র থেকে  উত্তর ভারতের দিকে জলীয় বাষ্প যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। এবার বর্ষাকালে মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান উত্তর ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি করার সহায়ক হয়েছে। এক‌ইসঙ্গে ওই এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ার জন্য বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরও তার বিশেষ রিপোর্টে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের গোড়াতে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির আরও একটি কারণ ছিল রাজস্থানের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত। 
এবার বর্ষা মরশুমে উত্তর ভারতে জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে স্বাভাবিকের থেকে অনেকটা বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বেশি বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থানে ও গুজরাতেও। দুটি রাজ্যে বন্যা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মরু এলাকা পশ্চিম রাজস্থানে সেখানকার স্বাভাবিক বৃষ্টির তুলনায় ৭৩ শতাংশ (মোট ৪৩২ মিমি) বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একাধিক নিম্নচাপ মধ্য ভারত হয়ে পশ্চিম ভারতে রাজস্থান ও গুজরাতের দিকে গিয়েছে। আরব সাগর থেকে ঢোকা জলীয় বাষ্প নিম্নচাপকে আরও শক্তিশালী করেছে। কয়েকদিন আগে ওড়িশা উপকূল হয়ে যে নিম্নচাপটি স্থলভূমিতে ঢুকেছিল সেটি এখন শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে গুজরাত ও রাজস্থানে ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এই ব্যাপারে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ