


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কয়েক মাস আগে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে রাজ্যে। সেই বছরই কলাইকুণ্ডায় তাপমাত্রা ৪৭.২ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। এই অবস্থায় হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহকে রাজ্যভিত্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করল নবান্ন। ফলে এখন থেকে তাপপ্রবাহের কারণে রাজ্যে কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকেও দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। গত ১৯ আগস্ট মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বাধীন ‘স্টেট এগজিকিউটিভ কমিটি’র বৈঠকে এই সিদ্ধন্ত হয়েছে। ২৫ আগষ্ট এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সিভিল ডিফেন্স দপ্তর।
কেন্দ্রীয় স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্সের গাইডলাইন অনুযায়ী সাধারণত বন্যা, সাইক্লোন, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি ঘটনাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে এই গাইডলাইনে রাজ্যভিত্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে। সেই ক্ষমতার বলেই এবার পশ্চিমবঙ্গে হিট ওয়েভ, নদী ভাঙন, ভারী বৃষ্টি, বন্য পশুর আক্রমণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, জঙ্গলে আগুন সহ মোট ১৪টি ঘটনাকে রাজ্যভিত্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে এসব কারণে মৃত্যু হলে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে কোনও বিষাক্ত প্রাণীর কামড় বা পশুর আক্রমণে মৃত্যুকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতো সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। এখন থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর যে কোনও ঘটনায় পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে। তবে তাপপ্রবাহ এবং নদী ভাঙনের কারণে মৃত্যুর ঘটনায় কিছু ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম ছিল না।
প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, এতদিন বজ্রাঘাতে মৃত্যু, দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু, নৌকাডুবি, গাছ পড়ে মৃত্যু, বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিত রাজ্য। এই গুলিকে রাজ্যভিত্তিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘোষণা করার ফলে এবার স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ডের (এসডিআরএফ) টাকা থেকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হবে। এসডিআরএফের বার্ষিক বরাদ্দের ১০ শতাংশ অর্থ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায়।
তবে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আবশ্যিক। সেটি যাচাইয়ের পরেই রাজ্যের তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পোস্টমর্টেম বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হিট ওয়েভে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের পাশাপাশি দেখা হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ মাংস পেশি ফেটে গিয়েছে কি না। সেই সঙ্গে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ লাল হয়ে যায়। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য মিললে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোক উল্লেখ করা হয়।