নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি কোর্টে না আনায় বিচারকের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল সিবিআইকে। মঙ্গলবার আর জি কর হাসপাতালের সেই আর্থিক দুর্নীতি মামলার শুনানিতে মূল অভিযোগের নথি কোর্টে পেশ করল সিবিআই। আর সেই আইনি নথির ভিত্তিতেই শুরু হল এই মামলার শুনানি। এদিন আলিপুরের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক সুজিতকুমার ঝা’র এজলাসে সাক্ষ্য দেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিক দেবল ঘোষ। তিনি এই মামলার অভিযোগকারী। দেবলবাবু তাঁর সাক্ষ্যে আর জি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে নানা তথ্য কোর্টে পেশ করেন। সিবিআইয়ের তরফে তাঁর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় তাঁর জেরা পর্ব। এদিন তাঁকে মামলার নানা বিষয় নিয়ে জেরা করেন অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের কৌঁসুলি সঞ্জয় দাশগুপ্ত। সেই জেরা অসমাপ্ত থাকে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় আগামী ৫ আগস্ট। এই মামলায় জেল থেকে পাঁচ অভিযুক্তকে এদিন সশরীরে কোর্টে হাজির করার পরিবর্তে শুনানি হয় ভার্চুয়ালে। তবে পরবর্তী শুনানির দিন সব অভিযুক্তকেই কোর্টে হাজির করার জন্য প্রেসিডেন্সি জেল সুপারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন এই মামলায় সিবিআইয়ের তরফে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে হাজির ছিলেন পার্থসারথি দত্ত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ টালবাহানার পর সম্প্রতি এই মামলায় পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত চার্জগঠন করে। জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় ওই চার্জ গঠন করা হয়। গত ২২ জুলাই বিচারক এই মামলায় প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। কিন্তু ওইদিন শুনানির শুরুতেই সিবিআইয়ের গাফিলতিতে মুলতুবি হয়ে যায় এই মামলার শুনানি। দেখা যায়, মামলার শুনানি শুরু হলে মূল অভিযোগের নথি সিবিআইয়ের কেস‑ডায়েরিতে নেই। সেই আইনি নথি কোথায় গেল? এই প্রশ্নে শুরু হয় তোলপাড়। কোর্টের সময় নষ্ট হওয়ায় সিবিআইয়ের কাজে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। পরবর্তী শুনানির দিনে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন বিচারক সিবিআইকে। এই মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক আশিস পান্ডের কৌঁসুলি আনন্দ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,‘শেষ পর্যন্ত মামলার শুনানি শুরু হল, এটাই স্বস্তির।’



