নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে ‘বৈষম্যবিরোধী’ পড়ুয়াদের আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব’-র দিক থেকে কিছু ভুল হয়েছিল। দেশ ছাড়ার ঠিক ১৫ মাসের মাথায় একথা স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর জন্য যেভাবে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হচ্ছে, সেটা ভুল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমকে লিখিত সাক্ষাত্কার দিয়েছেন হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে আমি সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এর কোনও ভিত্তি নেই। বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য এই অভিযোগ করছে।’ তিনি জানান, হিংসাত্মক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের মধ্যে কয়েকজনের অবশ্যই ভুল হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হাসিনা প্রতি মিনিটে নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলে যারা দাবি করছে, তারা প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানে না। হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি কখনই নিরাপত্তা বাহিনীকে জনতার উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি। আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য আমার অনুশোচনা হয়।’ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনালে হাসিনার বিরুদ্ধে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে’র বিচার চলছে। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। হাসিনা বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমার রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত ক্যাঙারু কোর্ট এই সমস্ত অভিযোগ আনছে। মনে রাখবেন, কোনও বাংলাদেশি নাগরিক এই সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেনি। আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছি, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে সব অডিও রেকর্ডিংকে প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, সেগুলিতে কারসাজি হয়েছে।’
গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তারপর থেকেই দিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন তিনি। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তিনি জানান, ভারত চিরকালই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির জন্য এই বন্ধুত্ব বজায় থাকা জরুরি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জন্য মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে অংশ না নিতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সংবিধান বিরোধী ও ভোটারদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও দাবি করেছেন হাসিনা।