Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

হরিনাম

হরিনাম ও হরি এই উভয়ের মধ্যে হরি অপেক্ষা হরিনাম প্রশস্ততর। মহান্‌ হরি, এ রাবণ, একে বধ কর্‌তে হবে, এ অর্জুন সখা—এর রথের সারথ্য করা প্রয়োজন, এইরূপ বিচার ক’রে ফলদান করেন। নাম পাপী, পুণ্যবান্‌ কোনদিকে লক্ষ্য না ক’রে তাদের কৃপা করেন। আচ্ছা, নামের সেই অহৈতুকী কৃপা এখন মানুষ পায়?

হরিনাম
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হরিনাম হরিস্তত্র হরের্নামাতিরিচ্যতে।

Advertisement

নামাবিমৃশ্য ফলদং বিমৃশ্য ফলদো হরিঃ।।
—ভগবন্নামমাহাত্ম্যধৃত লঘুভাগবত।
হরিনাম ও হরি এই উভয়ের মধ্যে হরি অপেক্ষা হরিনাম প্রশস্ততর। মহান্‌ হরি, এ রাবণ, একে বধ কর্‌তে হবে, এ অর্জুন সখা—এর রথের সারথ্য করা প্রয়োজন, এইরূপ বিচার ক’রে ফলদান করেন। নাম পাপী, পুণ্যবান্‌ কোনদিকে লক্ষ্য না ক’রে তাদের কৃপা করেন। আচ্ছা, নামের সেই অহৈতুকী কৃপা এখন মানুষ পায়?
কত কত লোক পেয়েছে, পাচ্ছে।
একটি সত্য ঘটনা বলি শোন—“না”-এর বাড়ী শান্তিপুর। তার দাদার শ্বশুরবাড়ী হুগলী জেলার কোনগ্রামে। “না”—বল্‌তে-কইতে, পাখী মার্‌তে, বখামীতে সকল বিষয়েই পটু। যখন সে দাদার শ্বশুরবাড়ী আস্‌তো, গুড়ুম গুড়ুম ক’রে বন্দুকের আওয়াজে গ্রামখানিক সজাগ রাখ্‌তো। বন্দুকের শব্দ শুন্‌লেই গ্রামবাসীগণ বুঝ্‌তেন “না” এসেছেন। সেই গ্রামে এক ব্রাহ্মণের বাড়ীতে প্রতি একাদশী হরিবাসর হত। গান বাজনারও নেশা “না” এর ছিল। সে গানের জন্য হরিবাসরে যোগ দিত। ক্রমে নাম তাকে কৃপা কর্‌লেন। নামে তার অনুরাগ এল। বহু সুরে তারকব্রহ্ম নামকীর্ত্তন কর্‌তো। অনেক লোকও তার কাছে বহুসুরে নাম করা শিখ্‌লে। তারপর “না” আর সে “না” রইল না। গলায় তুলসীমালা ধারণ কর্‌লে, “আমার গৌরাঙ্গ” ব’লে নদীয়া-নাগরের উপর একটা সুদৃঢ় সম্বন্ধ স্থাপন কর্‌লে। বলাই বাহুল্য আর সে বন্দুক স্পর্শ কর্‌তো না। শেষে নাম তাকে আনন্দের দেশে নিয়ে গেলেন। সর্ব প্রথমে তারই দত্ত বহু সুরে তারকব্রহ্ম নাম আজ অনেকে গান করেন।
নাম তাহ’লে পাত্রা-পাত্র বিচার করেন না?
না, তাঁর কাছে অপাত্রই নেই।
সুরাপো ব্রহ্মহা স্তেয়ো চৌরো ভগ্নব্রতোঽশুচিঃ।
স্বাধ্যায়বর্জ্জিতঃ পাপো লুব্ধো নৈষ্কৃতিকঃ শঠঃ।।
অব্রতো বৃষলীভর্ত্তা কুনখী সোমবিক্রয়ী।
সোপি মুক্তিমবাপ্নোতি বিষ্ণোর্নামানুকীর্ত্তনাৎ।।
—মাণ্ডব্যস্মৃতি
সুরাপায়ী, ব্রহ্মহত্যাকারী, স্বর্ণস্তেয়ী, অন্যদ্রব্য চোর, ভগ্নব্রত, অশুচি, স্বাধ্যায়বর্জিত, পাপী, লোভী, দুর্বৃত্ত, শঠ, অব্রত, বৃষলীভর্ত্তা, কুনখী, সোমবিক্রয়ী, এমন ব্যক্তিও যদি অনুক্ষণ বিষ্ণুনাম কীর্তন করে তাহলে মুক্তি প্রাপ্ত হয়।
সুরাপান কি খুব বেশী পাপ?
স্তেনো হিরণ্যস্য সুরাং পিবংশ্চ
গুরোস্তল্পমাবসন্‌ ব্রহ্মহা।
চৈতে পতন্তি চত্বারঃ
পঞ্চমশ্চাচরংস্তৈ।। ইতি।
—ছান্দোগ্যেপনিষৎ 
সুবর্ণচৌর, মদ্যপ, গুরুপত্নীগামী, ব্রহ্মহত্যাকারী, এই চারি ব্যক্তি এবং যে তাহাদের সঙ্গে ভোজন, উপবেশন, একত্রাবস্থানরূপ সংসর্গ করে, সে পতিত হয়। এই পাঁচটি মহাপাতক। পূর্বে ব্রাহ্মণগণ মদ্যপান করতেন। অসুরসকল মদ্যের সঙ্গে কচকে শুক্রাচার্য্যকে ভোজন করায়। তজ্জন্য শুক্রাচার্য্য অভিসম্পাৎ করেন—অদ্য প্রভৃতি যে ব্রাহ্মণ মদ্যপান কর্‌বেন, তিনি ব্রহ্মহত্যাকারী। গুরুপত্নীগমন, ব্রহ্মহত্যা ও সুরাপান, স্বর্ণস্তেয় এক পর্য্যায় ভুক্ত।
শ্রীগুরুপ্রকাশন প্রকাশিত ‘শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (৩য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ