নয়াদিল্লি: সময় কত তাড়াতাড়ি পাল্টে যায়! গতবারের আইপিএলে ওয়াংখেড়েতে দর্শকদের বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রোহিত শর্মার জায়গায় তাঁকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক মানতে পারেননি সমর্থকরা। হার্দিক যদিও লড়াই ছাড়েননি। বরং নিজের ক্ষমতায় আস্খা রেখেছিলেন। টি-২০ বিশ্বকাপের পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা সেজন্যই হয়ে উঠছে মধুর। হার্দিকের কথায়, ‘আমি কখনওই যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে সরে যাইনি। কেরিয়ারে এমন পর্যায় অনেকবার এসেছে যখন শুধু জেতার কথা ভাবতে পারিনি। বরং টিকে থাকাকেই প্রাধান্য দিতে হয়েছে। উপলব্ধি করেছি যে চারপাশে যা-ই ঘটুক না কেন, সবচেয়ে বড় বন্ধু ক্রিকেটই। আমি তাই পরিশ্রম করে গিয়েছি।’
৩১ বছর বয়সির মুখে শোনা গিয়েছে নিজের উপর বিশ্বাসের কথা। টি-২০ বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল ডানহাতি অলরাউন্ডারের। তাঁর কথায়, ‘বলা হয় ভাগ্যই আসল। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তখন থেকে সময় পাল্টাবে, তা জানতাম না। কিন্তু দুই-আড়াই মাস পরে সবকিছুই পাল্টে গেল।’ কিন্তু ২০২৪ আইপিএলকে ভুলতে পারেননি তিনি। পয়েন্ট তালিকায় হার্দিকের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান্সরা সবার শেষে ছিল। সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা শুনিয়েছেন হার্দিক। তাঁর কথায়, ’১১ বছর ধরে আইপিএল খেলছি। প্রত্যেক মরশুমেই ইতিবাচক থেকেছি। তবে একটা গ্রুপ হিসেবে ২০২৪ বড্ড চ্যালেঞ্জের ছিল। সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাও নিয়েছি। এবারের দলগঠনে সেই শিক্ষা কাজে এসেছে। এবার অভিজ্ঞতায় জোর দিয়েছি আমরা।’
ওয়াংখেড়ের কথা মাথায় রেখে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ গড়াতেই ছিল নজর। তা হওয়ায় সন্তুষ্ট অধিনায়ক। এবার মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষা। তরুণদের জন্য হার্দিকের পরামর্শ, ‘নিজের দক্ষতায় ভরসা রেখো। সেটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সংশয় থাকলেই প্রভাব পড়বে পারফরম্যান্সে। এই পর্যায়ে ওঠা-পড়া থাকবেই। কিন্তু লক্ষ্যে স্থির থাকতেই হবে। স্কিলের দিক দিয়ে ২১ -২২ বছরে আমরা যা ছিলাম তার চেয়ে ঢের এগিয়ে উঠতিরা। প্রতিভা ও ভয়ডরহীন মানসিকতায় ওরা অদম্য। দরকার শুধু কঠিন সময়ে ধৈর্য্য ধরা।’