বেঙ্গালুরু: জোটসঙ্গী চন্দ্রবাবুর আবেদনে সাড়া দিয়ে হিন্দুস্তান এরোনটিকস লিমিটেডের (হ্যাল) প্রোডাকশন ইউনিট কর্ণাটক থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে সরাতে পারে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সম্প্রতি এমনই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর থেকেই দুই রাজ্যের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়। মঙ্গলবার সেই তথ্য খারিজ করে দিল কর্ণাটক সরকার। সিদ্ধারামাইয়া সরকারের স্পষ্ট বার্তা, হ্যালের প্রোডাকশন ইউনিট অন্ধ্রপ্রদেশে স্থানান্তরের কোনও সম্ভাবনা নেই।
এদিন কর্ণাটকের বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী এম বি পাতিল জানান, ‘কোনও মুখ্যমন্ত্রীর হ্যালের প্রোডাকশন ইউনিট অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। বেঙ্গালুরুতে আগের মতোই সমস্ত কাজ চলবে। অন্ধ্রপ্রদেশের তরফে সম্ভবত নতুন ইউনিট তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি অন্য বিষয়।’ এই ইস্যুতে কর্ণাটক সরকারের অন্দরেও ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার বক্তব্য, এটি সম্ভব নয়। হ্যাল স্থানান্তরিত হবে না। উপ মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কথায়, রাজ্যে হ্যালের পরিকাঠামো রক্ষায় সমস্তরকমভাবে চেষ্টা চালাবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, এটা বিজেপি সরকারের আমলে তৈরি হয়নি। নেহরুর নেতৃত্বে বেঙ্গালুরুতে তৈরি হয়েছিল হ্যাল। আমরা কোনও মূল্যেই সংস্থাটিকে রাজ্যের বাইরে যেতে দেব না।
দিনকয়েক আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে অন্ধ্র্রপ্রদেশে একটি নতুন গ্রিনফিল্ড হ্যাল ইউনিট তৈরির প্রস্তাব দেন চন্দ্রবাবু। আর তারপরই হ্যালের স্থানান্তর নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, তারা কোনও কারখানা স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয়নি। অন্ধ্রপ্রদেশ-কর্ণাটক সীমান্ত থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে লেপাক্ষিতে ১০ হাজার একর জমিতে হ্যালের সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন চন্দ্রবাবু।