Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বপ্নাদেশের পর কাটা পড়ল বকুল গাছ জয়চণ্ডীর মূর্তি তৈরি করালেন গুণানন্দ মতিলাল

জয়নগরের মতিলাল বংশকে লোকে এক ডাকে চেনে। এই বংশের কৃতী পুরুষ গুণানন্দ মতিলাল।

স্বপ্নাদেশের পর কাটা পড়ল বকুল গাছ জয়চণ্ডীর মূর্তি তৈরি করালেন গুণানন্দ মতিলাল
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয়নগরের মতিলাল বংশকে লোকে এক ডাকে চেনে। এই বংশের কৃতী পুরুষ গুণানন্দ মতিলাল। তিনি ছিলেন যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যর খাজাঞ্চি। তবে তা নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। কিন্তু গুণানন্দ ছিলেন তখনকার নামকরা একজন ব্যক্তি। তিনি একদিন গঙ্গা দিয়ে নিজের বজরায় যাচ্ছিলেন গঙ্গাসাগর। সন্ধ্যা হওয়ায় স্নানের ঘাটে একটি বাদাম গাছের কাছে বজরা নোঙর করে। গুণানন্দ নামেন। হাঁটতে হাঁটতে কিছু দূর যাওয়ার পর ঘন জঙ্গলের মধ্যে আন্দাজ নবম বর্ষীয়া এক কিশোরীকে দেখেন কলসি নিয়ে জল আনতে চলেছে। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। এ সময় এক বালিকাকে দেখে আশ্চর্য হন তিনি। মেয়েটির পিছু নেন। আচমকা জঙ্গলে যেন হারিয়ে যায় বালিকা। গুণানন্দ বহু খুঁজেও হদিশ পান না। ফিরে আসেন বজরায়। সে রাতে স্বপ্নে আবার দেখেন বালিকাকে। মেয়েটি বলে, ‘আমি মা জয়চণ্ডী। আমার বরাভয় রূপ প্রতিষ্ঠা কর।’ তারপর জানায়, বকুল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি করতে হবে মূর্তি। স্বপ্নাদেশের পর ঘুম ভাঙে। মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন গুণানন্দ। মূর্তি তৈরি করান। জনশ্রুতি, স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী, পুকুরের কাছে দেবীর শিলারূপ মেলার কথা। পুকুর থেকে উদ্ধারও হয় সে শিলা। এখনও নিয়ম করে সেটির পুজো হয়। জয়চণ্ডীদেবীর সামনেই এখনও রয়েছে শিলাটি । জয়চণ্ডীর রূপ পরিবর্তন উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার। ১৫ দিন ধরে চলবে। তা দেখতে এই ক’দিন আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ।

Advertisement

জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার ন’নম্বর ওয়ার্ডে জয়চণ্ডীতলায় রয়েছে এই মন্দির। লোকে বলে, জয়নগরের নাম এই দেবীর নাম থেকেই হয়েছে। ১৫ দিন দেবী জয়চণ্ডী মাহেশ্বরী, শ্রীলক্ষ্মী, শীতলা, বিপত্তারিনী, গণেশজননী, বৈষ্ণবী, মনসা, জগধাত্রী, জাহ্নবী, অন্নপূর্ণা, রাই রাজা, কমলে কামিনী, ইন্দ্রাণী, রাজরাজেশ্বরী রূপ দেখা যায়। রাজরাজেশ্বরী রূপ তিনদিন থাকে। এই রূপ পরিবর্তন উৎসবে বিশাল মেলা বসে। মন্দিরের বর্তমান সেবাইত রবীন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ মাসের পূর্ণিমায় জগন্নাথের স্নান যাত্রার দিন ভোরে শিলাকে গঙ্গার জল এনে স্নান করানো হয়। মূর্তিকেও স্নান করানোর নিয়ম। পুজোর দায়িত্ব পেয়েছিল পণ্ডিত বংশ। সেই বংশের সঙ্গে চট্টোপাধ্যায় পরিবারও পুজোর দায়িত্ব পালন করে চলেছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ