সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয়নগরের মতিলাল বংশকে লোকে এক ডাকে চেনে। এই বংশের কৃতী পুরুষ গুণানন্দ মতিলাল। তিনি ছিলেন যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যর খাজাঞ্চি। তবে তা নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। কিন্তু গুণানন্দ ছিলেন তখনকার নামকরা একজন ব্যক্তি। তিনি একদিন গঙ্গা দিয়ে নিজের বজরায় যাচ্ছিলেন গঙ্গাসাগর। সন্ধ্যা হওয়ায় স্নানের ঘাটে একটি বাদাম গাছের কাছে বজরা নোঙর করে। গুণানন্দ নামেন। হাঁটতে হাঁটতে কিছু দূর যাওয়ার পর ঘন জঙ্গলের মধ্যে আন্দাজ নবম বর্ষীয়া এক কিশোরীকে দেখেন কলসি নিয়ে জল আনতে চলেছে। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। এ সময় এক বালিকাকে দেখে আশ্চর্য হন তিনি। মেয়েটির পিছু নেন। আচমকা জঙ্গলে যেন হারিয়ে যায় বালিকা। গুণানন্দ বহু খুঁজেও হদিশ পান না। ফিরে আসেন বজরায়। সে রাতে স্বপ্নে আবার দেখেন বালিকাকে। মেয়েটি বলে, ‘আমি মা জয়চণ্ডী। আমার বরাভয় রূপ প্রতিষ্ঠা কর।’ তারপর জানায়, বকুল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি করতে হবে মূর্তি। স্বপ্নাদেশের পর ঘুম ভাঙে। মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন গুণানন্দ। মূর্তি তৈরি করান। জনশ্রুতি, স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী, পুকুরের কাছে দেবীর শিলারূপ মেলার কথা। পুকুর থেকে উদ্ধারও হয় সে শিলা। এখনও নিয়ম করে সেটির পুজো হয়। জয়চণ্ডীদেবীর সামনেই এখনও রয়েছে শিলাটি । জয়চণ্ডীর রূপ পরিবর্তন উৎসব শুরু হচ্ছে বুধবার। ১৫ দিন ধরে চলবে। তা দেখতে এই ক’দিন আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ।



