নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হরিয়ানার ইউটিউবার। উত্তরপ্রদেশের স্মাগলার। পাঞ্জাবের পলিটিক্যাল সায়েন্সে এমএ পাঠরত ছাত্র। কেউ তো আবার ড্রাগ পেডলারও। ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একের পর এক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি স্পাইকে। এবার আরও একটি রাজ্য যুক্ত হল পাকিস্তানের স্পাই নেটওয়ার্কে। আর সেটা স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের রাজ্য গুজরাত। গ্রেপ্তার হল আরও একজন। সে পেশায় সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী। নাম সহদেব সিং গোহিল। কচ্ছের লাখপত ব্লকের বাসিন্দা। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি করা এবং ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের ভাইটাল ইনস্টলেশন বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলির তথ্য, ভিডিও পাচার করেছে এই অভিযুক্ত। সন্দেহ করা হচ্ছে, সে পড়েছিল হানিট্র্যাপে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যে হ্যান্ডলারকে নিয়ম করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বায়ুসেনার বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণের তথ্য ও ছবি পাঠাচ্ছিল সহদেব, তার পরিচয় দেওয়া হয়েছিল অদিতি ভরদ্বাজ নামে। সুতরাং গুজরাতের কচ্ছ জেলার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি এই পাক স্পাই যে হানিট্র্যাপে পড়েছিল, সেই সম্ভাবনাই প্রবল।
সহদেব গুজরাতের স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী। তবে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত। মূলত কচ্ছ সীমান্ত এলাকায় তার ডিউটি। ফলে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কিংবা সামরিক বিভাগের সক্রিয়তা, তৎপরতা কিংবা যে কোনও নতুন পরিকাঠামো নির্মাণের সাক্ষী সে প্রতিদিনই। এই সুযোগ নিতে চেয়েছে পাকিস্তানের স্পাই এজেন্সি। ২০২৩ সালের জুন মাসে লাখপত ব্লকের মাড় গ্রামে অভিযুক্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে অদিতি। যদিও গুজরাত পুলিসের দাবি, ভুল করে কিংবা অজ্ঞাতে নয়, সহদেব জেনেশুনেই এই তথ্য পাচারের কাজ করেছে। ওই অদিতি যে আদতে পাকিস্তানি স্পাই, এটা সে জানত। ৪০ হাজার টাকাও একবার নিয়েছে। কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে তাকে নগদের বান্ডিল দিয়ে উধাও হয়ে যায়। অর্থাৎ সেই ব্যক্তিও পাকিস্তানের স্পাই নেটওয়ার্কে আছে। সহদেবের অবশ্য বক্তব্য, ওই ব্যক্তির সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। কিন্তু ২০২৩ সালের জুন থেকে এপর্যন্ত একবারই পেমেন্ট হয়েছে, এটা হতে পারে না। তাই আরও তথ্য জানতে তাকে জেরা করছে পুলিস।
সবথেকে বিপজ্জনক যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটি হল, আইএসআই এবার ভারতে থাকা তাদের স্পাইদের হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি নিজেদের মোবাইল থেকে অপারেট করতে পারছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সহদেব একটি নতুন মোবাইল কেনে। সিম কার্ড নেওয়ার সময় সে আধারের ওটিপি শেয়ার করে অদিতিকে। তারপর থেকে ওই দ্বিতীয় মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্ক আইএসআই হ্যান্ডলারের মোবাইলেও সক্রিয়। এ পর্যন্ত হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ সর্বত্র ধরা পড়া স্পাইদের মোডাস অপারেন্ডি কমবেশি একই। সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত ও থাকার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিএসএফ ও সামরিক বাহিনীর মুভমেন্ট, কোনও নতুন তৎপরতা, পরিকাঠামো নির্মাণ, সমরসজ্জার সক্রিয়তা ইত্যাদির ছবি ও ভিডিও করে পাঠানো। গুজরাতে ধরা পড়া সহদেব ঠিক এটাই করেছে, এমনকী অপারেশন সিন্দুরের পরও। এই প্রবণতা বারংবার ধরা পড়েছে এবং একের পর এক রাজ্য যুক্ত হচ্ছে পাকিস্তানের আইএসআই চক্রে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত ৩৩২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। পাকিস্তানি স্পাই নেটওয়ার্ক কতটা সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে রয়েছে? সবথেকে উদ্বেগের বিষয় এটাই! আরও কত পাকিস্তান স্পাই লুকিয়ে আছে?