সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও বেতন পাননি কুলপির রামকিশোরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুরের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের অতিথি শিক্ষক। তাও তিনি নিয়মিত ক্লাস করে চলেছেন। পড়ুয়ারাও স্কুলে আসছে। চালু রয়েছে মিড ডে মিল। এখানে রাঁধুনিরা বেতন পেলেও, ব্রাত্য থেকে যান শিক্ষক। মহম্মদ মশিয়ার রহমান গাজি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ছিলেন। সরকারি নিয়ম মেনে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে এই স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সেই সময় এই স্কুলে কোনও ছাত্রছাত্রী ছিল না। পরবর্তী সময়ে মশিয়ার সাহেব গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে ঘুরে ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করে এই স্কুলে ভর্তি করেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া রয়েছে। নিয়মিত ক্লাসও হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রেজাউল শেখ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি বন্ধ ছিল। পরে সরকারিভাবে একজন অতিথি শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়। তারপর ফের পড়ুয়ারা একে একে এসে ভর্তি হয়। কারণ এই এলাকা থেকে অন্যান্য স্কুলের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। তবে এখানে কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে স্কুল ভবনটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সেটি মেরামত করতে হবে। তাছাড়া এখানকার অতিথি শিক্ষক প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও মুহূর্তে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অভিভাবকরাও চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে।’
অতিথি শিক্ষক মহম্মদ মশিয়ার রহমান গাজি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে চলেছি। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসি। লড়াই করে এখনও স্কুলটি চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু জানি না এভাবে কতদিন চালিয়ে যেতে পারব।’
কুলপির বিডিও সৌরভ গুপ্তা বলেন, ‘মশিয়ার সাহেবকে ব্লক অফিস থেকেই ওই স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে জেলা অফিস থেকে এখনও কোনও অনুমোদন আসেনি। তাই একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’