নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রকাশ্যে মদ্যপান, অসামাজিক কার্যকলাপ ও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল ব্যাঁটরা থানার চাঁদনিপুকুর এলাকায়। গত রবিবার রাতে দুষ্কৃতী তাণ্ডব ও স্থানীয় একটি আশ্রমের সামনে ভাঙচুরের পর আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। এই ঘটনায় দু’পক্ষই ব্যাঁটরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ব্যাঁটরা থানা এলাকার মাকড়দহ রোডে রয়েছে চাঁদনিপুকুর। এলাকা দখল নিয়ে অশান্তি, তোলাবাজির অভিযোগ সেখানে দীর্ঘদিনের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় বহু পুরনো একটি আশ্রম রয়েছে। এক সময় সেই আশ্রমের ট্রাস্ট বা কমিটি থাকলেও পরবর্তীকালে তা স্থানীয় একটি ক্লাবের হাতে হস্তান্তর হয়। ঝামেলার সূত্রপাত সেখান থেকেই। অভিযোগ, আশ্রম দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা বাড়তে থাকে। তা নিয়ে এর আগে একাধিকবার দুষ্কৃতী তাণ্ডব হয়েছে এলাকায়। সম্প্রতি সেখানে প্রোমোটিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চরম আকার নেয়। পাশাপাশি এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোটো ছোটো কারখানা। সেগুলি থেকে নিয়মিত তোলাবাজি চলে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের কথায়, এসব কারণেই এলাকায় বহিরাগত দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বেড়েছে। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও কেউ কেউ ঢুকছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে এলাকায় একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে একদল দুষ্কৃতী ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গত তিনদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।
এদিন এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ল ভাঙচুরের চিহ্ন। আশ্রমের সামনেই পড়ে রয়েছে মদের বোতল, গ্লাস। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা চেয়ার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মহিলা বলেন, ‘রাস্তার মধ্যেই এখানে নিয়মিত মদ্যপান চলে। মহিলারা পাশ দিয়ে গেলে কটুক্তি উড়ে আসে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’ এলাকায় যে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবারের ঘটনার পর দু’পক্ষের তরফে অভিযোগ জানানো হয়। অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় লাগাতার টহল দেওয়া হচ্ছে। যে বা যারা জড়িত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।