Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

গ্রেট? ট্রাম্পের আমেরিকা অন্তত নয়

দরজা ধাক্কানোর শব্দটা ঠিক অতিথিসুলভ নয়। এই ধাক্কার মধ্যে একটা আধিপত্য আছে। ক্ষমতা জাহিরের চেষ্টা। এই একটা অনুভূতিই নাড়া দিয়েছিল রঞ্জনী শ্রীনিবাসনের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে।

গ্রেট? ট্রাম্পের আমেরিকা অন্তত নয়
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত: দরজা ধাক্কানোর শব্দটা ঠিক অতিথিসুলভ নয়। এই ধাক্কার মধ্যে একটা আধিপত্য আছে। ক্ষমতা জাহিরের চেষ্টা। এই একটা অনুভূতিই নাড়া দিয়েছিল রঞ্জনী শ্রীনিবাসনের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে। কানে ধরা ফোনের ওপারে তখন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট অফিসার। তিনি জবাব দিয়ে দিয়েছেন... ‘নাঃ, কিচ্ছু করা যাবে না। আপনার ভিসা ওরা বাতিল করে দিয়েছে।’ ওরা কারা? ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। ইমিগ্রেশন দপ্তর। যাদের তিন এজেন্ট এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দরজার বাইরে। ঠান্ডা মাথায় একটা ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রঞ্জনী— দরজা খোলা যাবে না। তিনি এবং তাঁর রুমমেট, দু’জনেই প্রায় দম বন্ধ করে পাথরের মতো বসে অ্যাপার্টমেন্টের ভিতর। কারণ বাইরে অপেক্ষা করছে ‘শমন’। একটু ভুল করলেই সব শেষ। কেরিয়ার, স্বপ্ন, দেশে ফেরা, স্বাধীন জীবন...। অথচ রঞ্জনী জানেনই না, তাঁর অপরাধটা কী! হাতে আছে বলতে চেন্নাই কনস্যুলেটের একটা ই-মেল— ‘আপনার ভিসা রিভোকড।’ চলে গিয়েছে ওরা। কিন্তু আবার আসবে। কী করতে হবে, ঠিক করে নিলেন রঞ্জনী। পরের রাতে আবার যখন ওরা এল, ব্যাগ গুছানো হয়ে গিয়েছে তাঁর। আর তৃতীয় রাতে বিচারবিভাগীয় নোটিস হাতে এসে অভিবাসন দপ্তরের এজেন্টরা দেখল, রঞ্জনী নেই। তিনি ততক্ষণে পাড়ি দিয়েছেন কানাডায়। মনে একরাশ কষ্ট আর বিস্ময় নিয়ে। ২০১৬ থেকে এই দেশে আছেন তিনি। পিএইচডি করছেন। এমনটা হবে, সত্যিই কল্পনা করেননি। পরে জেনেছেন, মার্কিন সরকার তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’ বলে দেগে দিয়েছে। কারণ, গাজায় ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদ সভায় দেখা গিয়েছিল রঞ্জনীকে। হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই তাঁকে আটক করা হয়। যদিও এই মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তাই ভিসা রিনিউয়ের সময় তিনি এর কথা উল্লেখও করেননি। তার পরিণতি এমন?

Advertisement

হঠাৎই একটা আতঙ্ক কালবৈশাখী মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন মুলুকের বিদেশি পড়ুয়াদের আকাশে। তাঁরা এখন তটস্থ, বিপর্যস্ত। প্রত্যেকটা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে কানাচে এখন দেখা যাচ্ছে এক একজন রঞ্জনী শ্রীনিবাসনকে। প্রত্যেকে ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। একটা অসাবধানী মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট, একটা ট্রাফিক আইন ভাঙার মামলা পর্যন্ত চিরতরে শেষ করে দিতে পারে তাদের পড়াশোনা। বন্ধ করে দিতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরজা। এটাই যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পলিসি’! দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার পর আরও বেশি আগ্রাসী তিনি। আরও অনেক বেপরোয়া। তাঁর স্লোগান কী? মেক আমেরিকা গ্রেট আগেন... অর্থাৎ, এখন আমেরিকার আর গ্রেট নেই। তাকে তিনি আগের মতো গ্রেট করে তুলবেন। আগের মতো বলতে? কোন গ্রেট আমেরিকার কথা তিনি বলছেন? ১৯৩০ সালের নয় তো? ভাবসাব কিন্তু তাঁর তেমনটাই। ওই বছর বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি আইন পাশ হয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসে। সেনেটর রিড স্মুট এবং উইলিস হাওলি দাবি করেছিলেন, মার্কিন কৃষি এবং শিল্পকে বাঁচাতে হবে। সেটা একমাত্র সম্ভব, যদি আমদানি হওয়া যাবতীয় পণ্যের উপর চড়া শুল্ক চাপানো যায়। তাহলে সাধারণ মানুষ আর বাইরের জিনিসপত্র কিনবে না। তারা ঝুঁকবে মার্কিন পণ্যের দিকে। আর দেশজ জিনিসপত্রের উৎপাদন বাড়বে। আঁতকে উঠেছিলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদরা। দেশের অর্থনীতির ব্যালান্সটাই যে নষ্ট হয়ে যাবে! চিঠি দিয়েছিলেন তাঁরা প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হুবারকে— ভেটো দিন। এই শিল্প নীতি মানবেন না। শোনেননি হুবার। ২০ হাজার আমদানিকৃত পণ্যের উপর শুল্ক বেড়ে গিয়েছিল রাতারাতি। আর অঙ্কটা ছিল গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ। ফল? মহামন্দা। আমেরিকা গ্রেট হয়নি। কিন্তু দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন হানা দিয়েছিল মার্কিন অর্থনীতিতে। খেপে গিয়ে কানাডা এবং ইউরোপও তখন পাল্টা শুল্ক চাপিয়ে দেয় আমেরিকার উপর। শুরু হয় বয়কট। ইউরোপে মার্কিন পণ্য আমদানি কমে যায় প্রায় ৩২ শতাংশ। রাজনীতির মাশুল গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে। অর্থনীতিকে। দেশকে। এবং অবশ্যই গোটা বিশ্বকে। কারণ, মার্কিন মহামন্দার প্রভাব ছড়িয়ে যায় বিশ্বের প্রত্যেকটা শেয়ার বাজারে। এই প্রত্যেকটা ছবি এখন ভীষণ চেনা। যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হুবারের জায়গায় নামটা শুধু বদলেছে— ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাকি সব যেন কার্বন পেপারে ছাপা। এমনকী দু’জনের রাজনৈতিক সত্ত্বাও। কারও হুবার এবং ট্রাম্প দু’জনেই রিপাবলিকান। ট্রাম্পের মাথায় অতিরিক্ত কোন পোকাটা নড়ছে? দেশি-বিদেশি পোকা। শুধু পণ্য নয়, তিনি বাইরের দেশ থেকে আসা কর্মী-পড়ুয়াদেরও ‘ছাঁটাই’ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। নিরন্তর ‘কাজ করে চলেছে’ এজেন্সিগুলো। খোঁজ চলছে... কার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জমা আছে। একটা সুচই যথেষ্ট, ফাল হয়ে বেরনোর জন্য। পত্রপাঠ ভিসা বাতিল। আর তারপর ‘সেল্ফ ডিপোর্টেশন’। মানে? নিজের পয়সায় দেশে ফেরত যাও। আমেরিকার তোমার ফেরার ব্যবস্থা করতে পারবে না। প্রতিবেশী মজা করে ৯১১-এ ফোন করলেও পুলিস এসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয়, বাংলাদেশি বা ফরাসি নাগরিককে। হোক না তারা পড়ুয়া। তাতে কী? অভিযোগ তো হয়েছে। অভিযোগকারী সেই পড়শির সাফাইও আর শুনছে না তারা। কারণ, এই বেশ একটা ছুতো পাওয়া গিয়েছে। সোমবার কোর্টে শুনানির তারিখ পড়ছে, আর ঠিক তার আগের শুক্রবার নোটিস হাতে হাজির হয়ে যাচ্ছে ইমিগ্রেশন দপ্তরের ‘এজেন্ট’রা— আপনার সময় শেষ। ভিসা বাতিল। এখনই মার্কিন মুলুক ছেড়ে চলে যান। না হলে জেল। কিন্তু সোমবার যে কোর্টে হাজিরা দিতে হবে! ওসব শুনবে না এজেন্টরা। কারণ এটাই তাদের চাল। হাজিরা না দিলে চিরতরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই পড়ুয়া বা কর্মীর ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে। এটাই যে চায় তারা। ছাঁটাই করতে। আমেরিকা শুধু আমেরিকানদের জন্য। বাইরের লোক আসবে, বিক্ষোভ দেখাবে, গাজার কথা বলবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবে... এসব চলবে না। এখানে থাকতে হলে মুখে তালা মেরে রাখো। ভাবটা এমন, আমরা দয়া করে তোমাদের এখানে আসার, আর পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। এটাই অনেক। তাই গ্রিন কার্ড থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয় মাহমুদ খলিলদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায় ‘এজেন্ট’রা। বিদেশিদের একটু বেচাল দেখলেই হাতকড়া পরিয়ে তুলে দেওয়া হয় প্রিজন ভ্যানে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ৪০ কোটি ডলারের অনুদান বন্ধ হয়ে যায়। বাক স্বাধীনতা চলে যায় মায়ামির সমুদ্রতটে হাওয়া খেতে। 
এটাই নতুন আমেরিকা। ট্রাম্পের আমেরিকা। এমনটাই তো চেয়েছিলেন উনি! কিন্তু সাহেব বোধহয় ভুলেছেন, তাঁর মহান দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য উচ্চশিক্ষা পাওয়া যায় বিনামূল্যে। বিদেশি, মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের ছেলেমেয়েরাই কোটি কোটি টাকা খরচ করে যায় ওখানে পড়ার জন্য। মার্কিন মুলুকে গিয়ে থাকতে চায় কাজের জন্য। বাড়তি আয়ের আশায়। সেটা কিন্তু আমেরিকার অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করে। আপনার দেশের নাগরিকরা যদি ল্যাদ না খেয়ে কাজ করতে আগ্রহী হতো, তাহলে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদেরই চাকরি দিত। ভারতীয়দের নয়। তারা যদি অল্পসল্প কাজের জন্য বেশি ভাতা দাবি করে বিক্ষোভ না দেখাত, নিয়োগে অগ্রাধিকার পেত ওরাই। কোনওমতে বারো ক্লাসের পড়া শেষ করে বইপত্র তারা যদি সিন্দুকে ভরে না ফেলত, ইউনিভার্সিটিতেও থাকত তাদেরই রমরমা। ট্রাম্প সাহেবের কি এই ঘোর বাস্তবটা ভুললে চলবে? আমেরিকায় যদি ভারতীয়রা এখন আর পড়তে না যায়, ঘুরতে না যায়, ভারতীয় জিনিসপত্র যদি আমেরিকায় সহজে পাওয়া না যায়... ব্যালান্স থাকবে না। অর্থনীতি তো নয়ই, ধুলোয় লাট খাবে ট্রাম্প সাহেবের যাবতীয় ‘গ্রেট’ নীতি। মনে রাখতে হবে, ১৯৩০ সালে মহামন্দার সময় মার্কিন জিডিপির মাত্র ৩ শতাংশ অঙ্কের পণ্য আমদানি করত আমেরিকা। এখন কিন্তু সেটাই ১৪ শতাংশ। ফারাকটা বেড়েছে। কারণ, ব্যবসা বেড়েছে। খবর আসতে এখন এক সেকেন্ড লাগে। শেয়ার বাজার ধসতেও তাই।  সোমবার মাত্র ১০ সেকেন্ডে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে উবে গিয়েছে ২০ লক্ষ কোটি টাকা। গোটা বিশ্বের বাজারে একইভাবে ধাক্কা লেগেছে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কযুদ্ধের। প্রেসিডেন্ট হুবারের ‘ভুলে’ বিশ্ববাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছিল ৬৬ শতাংশ! আমেরিকা অবশ্য এরপর দাদাগিরি করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-টুদ্ধ করে নিজেদের অর্থনীতিটা ম্যানেজ করে নিয়েছিল। এবারও ট্রাম্প বিস্তর চাপে পড়ে গেলে তেমন কিছু হবে ধরে নিয়ে গোটা দুনিয়া তৈরিই আছে। কিন্তু একটা বিষয় ট্রাম্প সাহেব আর মেরামত করতে পারবেন না... মানবিকতা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক পড়ুয়া ব্রিটেন বা জার্মানিতে চলে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছে। এক দশকের উপর গ্রিন কার্ড থাকা সত্ত্বেও বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার বলছে, নাগরিকত্ব নেব না। প্রশ্নই নেই এ দেশে পাকাপাকিভাবে থাকার। 
জন হোপ ব্রায়ান্ট লস এঞ্জেলসে থাকেন। অর্থনীতিবিদ, শিল্পপতি এবং বিখ্যাত এনজিও অপারেশন হোপ-এর কর্ণধার। একটা ঘটনা তিনি বারবার বলেন। সময়টা ২০০৫-০৬’এর আশপাশে। ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক লেকচারার হিসেবে এসেছিলেন। একদিন ক্লাস নিয়ে হোটেলে ফিরেছেন। বিধ্বস্ত। হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, তাঁর মানিব্যাগটা নেই। সব ক্লান্তি ছুটে গেল। কারণ, ওই ওয়ালেটের মধ্যেই ছিল তাঁর যাবতীয় ক্রেডিট কার্ড, নগদ এবং পাসপোর্টও। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের রিসেপশনে ছুটলেন। বললেন, যে গাড়িটা আমাকে ছেড়ে গেল, এখনই ওটাকে ডাকুন। হোটেলওয়ালারা বলল, ‘সরি স্যার। ওটা ট্যাক্সি ছিল। পাওয়া মুশকিল। তাও যে কোম্পানি ট্যাক্সির বন্দোবস্ত করে দেয়, তাদের ফোন করে দেখছি।’ তারা ফোন করে গেল, কিন্তু কেউ ধরল না। মাথায় হাত ব্রায়ান্টের। রাত ২টোর সময় রিসেপশন থেকে ঘরে ফোন এল— ‘স্যার, ট্যাক্সি ড্রাইভার ফোন করেছিল। ও আপনার ওয়ালেট নিয়ে আসছে।’ ছুটতে ছুটতে নীচে এলেন ব্রায়ান্ট। দেখলেন, সেই ড্রাইভার দাঁড়িয়ে আছে। হাতে ওয়ালেট। কোনও কথা না বলেই সেটা খুলে ফেললেন তিনি। সব আছে সেখানে... পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ৭০ ডলার। দোভাষী দিয়ে তিনি গাড়ি চালককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মাসে কত টাকা ইনকাম করো?’ সে বলেছিল, আড়াই হাজার। সেই সময় এক ডলারের দাম ছিল ৩৫ টাকার মতো। ওই ৭০ ডলার এগিয়ে দিলেন ব্রায়ান্ট। সে শুধু মাথা নেড়ে বলল, ‘না’। ব্রায়ান্ট বোঝালেন, এটা তোমার এক মাসের মাইনের সমান। রীতিমতো রেগে গিয়ে মাথা নেড়ে সে বলল, ‘ধন্যবাদ। কিন্তু টাকা আমি নেব না। আমি পুরস্কারের লোভে আপনাকে ওয়ালেট ফেরাতে আসিনি। এটা আমার কর্তব্য।’ ব্রায়ান্ট তখন বুঝেছিলেন, এটাই আসল ভারত। এই দেশ প্রকৃতি, রাজনীতি, স্থাপত্যের নয়। ভারত হয়েছে মানুষে। মানবিকতায়। এটাই গোটা দুনিয়া চেনে। জানে। আর আমেরিকাকে বিশ্ব চেনে তাদের নীতির মাধ্যমে। দাদাগিরিতে। ব্রায়ান্ট বলেন, নিউ ইয়র্কে ওয়ালেট হারালে কিন্তু আমি ফিরে পেতাম না! কিন্তু ভারতে পাব। ওই ধনকুবের সেদিন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কী করতে পারি তোমার জন্য? সে বলেছিল, ‘এরপর ভারতে এলে আমার বস্তির ছোট্ট ঘরটায় আসবেন। আপনাকে চা খাওয়াব।’ 
ব্রায়ান্ট আবার হয়তো ভারতে আসবেন। মানুষের টানে। কিন্তু ভারতীয়রা? তারা ফিরে যাবে তো আমেরিকায়? রঞ্জনীর জন্য মার্কিন দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প সরকার। যারা আছে, তারাও প্রার্থনা করছে... কোনও মতে কোর্সটা শেষ করে পালাতে পারলে বাঁচি। ফিরে যাই ভারতে। নিজের দেশে। কারণ, ভারতকে অন্তত স্লোগান দিয়ে ‘গ্রেট’ হতে হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ