Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

বিরাট দায়িত্ব ও সম্ভাবনা

বাচ্চাদের মধ্যে নিউমোনিয়ার সমস্যা বেশি। ভারতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের নীচের ১ লক্ষ ২৭ হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত হয়েছিল নিউমোনিয়া।

বিরাট দায়িত্ব ও সম্ভাবনা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাচ্চাদের মধ্যে নিউমোনিয়ার সমস্যা বেশি। ভারতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের নীচের ১ লক্ষ ২৭ হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত হয়েছিল নিউমোনিয়া। ২০১৭ সালে ভারতে মোট শিশুমৃত্যুর ১৪ শতাংশের কারণ ছিল এই রোগ। পরবর্তী বছরগুলিতে পরিস্থিতির কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও সমস্যাটি মোটেই দূর হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মত ছিল, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা হলে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেখে পর্যাপ্ত পুষ্টির ব্যবস্থা করা গেলে তাদের মধ্যে অনেক বাচ্চাকেই বাঁচানো সম্ভব হত। কিন্তু বাবা-মায়ের দারিদ্র্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস এবং মাত্রারিক্ত দূষণ অসংখ্য শিশুকে ভাগ্যাহত করে রেখেছে। শৈশবে রোগভোগ মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এই কারণে পূর্ণবয়সেও অনেকের মধ্যে ক্রনিক অসুখবিসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে। প্রবীণ বয়সে বা বার্ধক্যে ফুসফুসের সমস্যা প্রবল আকার নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুর হার বয়স্কদের মধ্যেও যথেষ্ট। হাসপাতাল এবং বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ ভেদে কিছু তফাত লক্ষ করা গিয়েছে। তাতে এই হার ৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। আমরা জানি, সুস্থ থাকার উপায় দুরকম—অসুখে পড়ার আগেই সাবধান হয়ে যাওয়া। বেশকিছু রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে এবং বহু ভ্যাকসিন বা টিকা ইতিমধ্যেই চলে এসেছে সাধারণ পরিবারের নাগালে। তাই সময়মতো টিকাকরণে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর একটি উপায় হল রোগাক্রান্ত হওয়ার পর সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত। মনে রাখতে হবে, বহু চেনা রোগও কিন্তু দুরারোগ্য, চিকিৎসার পরও মৃত্যুহার ১০০ শতাংশ! সেক্ষেত্রে এক ও একমাত্র চিকিৎসা পূর্বাহ্ণেই টিকাগ্রহণ। অর্থাৎ বহু ক্ষেত্রে টিকাকরণের বিকল্প কিছু নেই। নিউমোনিয়া এখন চিকিৎসাসাধ্য অসুখ হলেও তার টিকাকরণ একটি শ্রেষ্ঠতর উপায়। তাই শিশুদের তো বটেই, পূর্ণবয়স্ক, এমনকি প্রবীণদেরও টিকাকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  

Advertisement

এ দেশে প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বহু প্রবীণ মানুষ মারা যান। ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জায় ভুগেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। তাই দেশের ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যুর হার কমাতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বয়স্কদের বিনামূল্যে নিউমোনিয়া ও ফ্লু-র ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সারা দেশেই চালু হবে। তবে তার আগে বিভিন্ন রাজ্যের কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে কাজটি। এটি কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির একটি যৌথ উদ্যোগের কর্মসূচি। রাজ্য স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, বাংলায় পাইলট প্রজেক্ট শুরু হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ব্লকে। টিকা নেওয়া প্রবীণ ব্যক্তিদের সরকারই একটি বিমার আওতায় আনবে। কারণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভরতি এবং সুচিকিৎসার ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহন করতে হবে না। পুরো খরচ ওই বিমা মারফত সরকারই মেটাবে। প্রথম দফায় সোনারপুর ব্লকে হাজার দেড়েক প্রবীণ নাগরিককে এই টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিশেষ ডাক্তার ও নার্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে আলাদাভাবে। ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে তাঁদের প্রশিক্ষণ পর্ব। টিকাকরণ চলবে সোনারপুর ব্লকের ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। 
যেকোনও সরকারি প্রকল্পের সাফল্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও এই দিকটির উপর জোর দেওয়ার নীতি নিয়েছে। এই কর্মসূচি শুরুর আগে সমস্ত এলাকায় ভালোভাবে প্রচার চালাবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ভ্যাকসিনের ইতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের বিশেষভাবে আশ্বস্তও করা হবে। প্রত্যেকে ভ্যাকসিনের দুটি করে ডোজ পাবেন। পরবর্তী দুবছর তাঁরা থাকবেন স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষণে। এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্য থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট নেবে কেন্দ্র। সেসব পর্যালোচনার পরই দেশজুড়ে গণটিকাকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। অর্থাৎ সামনে বিরাট দায়িত্ব ও সম্ভাবনা। প্রতিটি ভারতবাসী তার সফলতা নিশ্চয় চান। পাইলট প্রজেক্টের বিশেষ সাফল্যই আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। তাই পাইলট প্রজেক্ট যাতে নির্ভুলভাবে পরিচালিত হতে পারে তার জন্য গোড়াতেই আন্তরিক ও যত্নবান হওয়া জরুরি। আশা করা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যদপ্তর এই মহতী উদ্যোগেও তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ