নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পারিবারিক অশান্তির জেরে আড়াই মাসের নাতিকে পুকুরে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠল ঠাকুরমার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোরে ডোমজুড়ের সলপের পীরডাঙা এলাকায় ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় মৃত শিশু অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। ঘটনায় অভিযুক্ত ঠাকুরমা সারথি বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও দম্পতির এক সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক ধরে ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন অভিজিৎ ও ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্যোজাত সন্তানের দেখভাল করার জন্য কিছুদিন আগে অভিজিৎ আরামবাগের বাড়ি থেকে নিজের মা সারথিদেবীকে এখানে নিয়ে আসেন। সোমবার রাতে শিশুটি তার মা ও ঠাকুরমার সঙ্গে একই ঘরে শুয়েছিল। অভিজিৎ তখন নাইট ডিউটিতে ছিলেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন তিনি। এদিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ময়নাদেবী শৌচকর্ম সারতে বাড়ির বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন, শাশুড়ি শুয়ে থাকলেও বিছানায় নেই সন্তান। ময়নাদেবী চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরাও। খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, খোঁজাখুঁজির মধ্যেই পাড়ার কয়েকটি কুকুর একটি পুকুরের কাছে চেঁচাচ্ছে। মহিলারা গিয়ে দেখেন, জলে ভাসছে একটি শিশুর পা। জল থেকে তুলে আনার পর বোঝা যায়, সেটি অর্ণবের দেহ। চারিদিকে যখন হইচই, ঘরে শিশুটির ঠাকুমা সারথিদেবীকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে সন্দেহ ঘনীভূত হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরা ধারণা করেন, শিশুটিকে পুকুরে ফেলে খুন করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা ঠাকুরমাকে চেপে ধরতেই তিনি নাকি স্বীকার করেন, শিশুটিকে তিনিই পুকুরে ফেলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে ডোমজুড় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে। তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত জানায়, শিশুটিকে পুকুরে ফেললেও তাঁর ধারণা ছিল না, যে সে ডুবে মারা যাবে।
ময়নাদেবী অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি আমাকে পছন্দ করত না। সেই রাগে ছেলেকে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’ তবে শিশুর বাবা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ না করলেও তিনি স্বীকার করেছেন, কয়েকদিন ধরে মাকে টাকা পাঠানো নিয়ে অশান্তি চলছিল। তার জেরেই এই ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ।
এই সূত্রেই আরও একটি ঘটনা উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দু’বছর আগে এই দম্পতির সাতমাস বয়সি আরেক সন্তানেরও রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল। ঠাকুরমা সারথি শিশুটিকে খাওয়ানোর সময় মৃত্যু হয় তার। যদিও অভিজিৎ বলেন, ‘প্রথম ছেলের ব্রঙ্কাইটিস হয়েছিল। গলায় খাবার আটকে মারা গিয়েছিল।’ এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘অভিযুক্ত ঠাকুরমা অসংলগ্ন কথা বলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’