নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রেল, রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের লক্ষ লক্ষ টাকার ইলেকট্রিক কেবল চুরির পিছনে রয়েছে একটিই চক্র। পৃথক দু’টি চুরির ঘটনায় সম্প্রতি অন্তঃরাজ্য গ্যাংটির রিসিভার সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে শালিমার আরপিএফ ও শিবপুর থানার পুলিশ। ডোমজুড়ে হদিশ মিলেছে চুরির কেবল মজুদ রাখার গোডাউনেরও। উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার কেবল। চক্রটির মাথাকে ধরতে যৌথ তদন্তে নেমেছে রেল ও হাওড়া সিটি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্টোবর মাসের ২২ ও ২৬ তারিখ সাঁতরাগাছি স্টেশন সংলগ্ন রেলের ইলেকট্রিক সাবস্টেশনের সামনে থেকে বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে রাখা প্রচুর পরিমাণ ইলেকট্রিক কেবল চুরি করে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। রাতের অন্ধকারে নয়, প্রকাশ্য দিনের আলোতেই দুষ্কৃতীরা ক্রেন এনে সেগুলি ম্যাটাডোরে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সাঁতরাগাছি আরপিএফ। চলতি মাসের শুরুতেই হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে রেল পুলিশ। ধৃতদের নাম: মহম্মদ শাহিদ, কামরে আজম, রাফতার, মহম্মদ দানিশ, শামিম আনসারি, সেইফাজ খান ও সরোজকুমার রাই। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয় দু’টি হাইড্রোলিক ক্রেন ও তিনটি ম্যাটাডোর গাড়ি। তাদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে রেল পুলিশ। কিন্তু চুরির মাল কোথায় গিয়ে পৌঁছচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল পুলিশেরও।
এদিকে, মাসখানেক আগে শিবপুর এলাকাতেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের জড়ো করে রাখা ইলেকট্রিক কেবল চুরি করে পালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার তদন্তে নামে শিবপুর থানার পুলিশ। এরপরেই দুর্গেশ যাদব নামের লিলুয়ার এক বাসিন্দার নাম সামনে আসে। ৪ নভেম্বর গোশালা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করতেই হদিশ মেলে ডোমজুড়ের গোডাউনের। এরপর সেখানে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া সব ইলেকট্রিক কেবল।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রিক কেবলের দাম ২০ লক্ষ টাকারও বেশি। প্লাস্টিকের আবরণ গলিয়ে ভিতর থেকে তামার তার বের করে সেগুলোকে চোরাবাজারে বিক্রি করা হতো। গ্রেফতার হওয়া দুর্গেশ যাদব গোটা চক্রের রিসিভার হিসেবে কাজ করতেন। রেল ও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের সমস্ত কেবল তাঁর গোডাউনেই রাখা ছিল। গোটা চক্রটি অন্যান্য জেলাতেও আগে একই কায়দায় ইলেকট্রিক কেবল চুরি করেছে।
এদিন দুপুরে ধৃত দুর্গেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শিবপুর থানায় আসেন রেলপুলিশের কর্তারা। শালিমার আরপিএফের এক আধিকারিক বলেন, চক্রের মূল মাথা এখনও অধরা। তবে শীঘ্রই সে জালে ধরা পড়বে। শিবপুর থানার সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চলছে।