Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবশেষে চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন গোপাল, আস্থা ভোটেও ভরাডুবি, সবুজ আবির উড়িয়ে উচ্ছ্বাস বনগাঁয়

পর পর দু’দিন তৃণমূল ভবনে ডেকে বনগাঁর কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলেন দলের নেতৃত্ব। দলের ‘কড়া বার্তার’ পর বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গোপাল শেঠ।

অবশেষে চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন গোপাল, আস্থা ভোটেও ভরাডুবি, সবুজ আবির উড়িয়ে উচ্ছ্বাস বনগাঁয়
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: পর পর দু’দিন তৃণমূল ভবনে ডেকে বনগাঁর কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলেন দলের নেতৃত্ব। দলের ‘কড়া বার্তার’ পর বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গোপাল শেঠ। বুধবার সকালে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে মেইল করে ইস্তফা পাঠিয়েছেন গোপাল। তাতে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা সংক্রান্ত নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিষয়টি চাউর হতেই মিছিল করে, সবুজ আবির উড়িয়ে, বাজি ফাটিয়ে উৎসাহে মেতে ওঠেন দলের কর্মীরা। মিছিল শেষে গঙ্গাজল ছিটিয়ে বনগাঁ পুরসভায় এসে আস্থা ভোটে অংশ নেন কাউন্সিলাররা। ২২ জনের মধ্যে এদিন ২০ জন কাউন্সিলার গোপালের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক কংগ্রেস ও এক নির্দল কাউন্সিলার। জানা গিয়েছে, ৬ নভেম্বর দল গোপাল শেঠকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। তারপর ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় তৃণমূল। এই পর্বেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে চলে যান গোপাল। তার আগে ভাইস চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরিয়ে দেন তিনি। এরপরই গোপালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন ন’জন কাউন্সিলার। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে পুরসভায় এসে নিজের পক্ষে আস্থা অর্জন করতে হয় চেয়ারম্যানকে। কিন্তু সেটাও না করায় বুধবার পুরসভার মিটিং হলে দুপুরে আস্থা ভোটের ডাক দেন গোপালের বিরোধী তিন কাউন্সিলার জ্যোৎস্না আঢ্য, কৃষ্ণা রায় এবং নারায়ণচন্দ্র ঘোষ। তার আগেই এদিন সকালে পদত্যাগ করেন গোপাল। 

Advertisement

দুপুর ১২টায় বনগাঁ তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিস থেকে মিছিল শুরু করে তৃণমূল। ছিলেন তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। মিছিলে ওড়ে সবুজ আবির। মিছিল আসে পুরসভার সামনে। এরপর গঙ্গাজল ছিটিয়ে পুরসভায় ঢোকেন কাউন্সিলাররা। শুরু হয় আস্থা ভোট। পুরসভার ২২ জন কাউন্সিলারের মধ্যে আস্থা ভোটে অংশ নেন ২০ জন। শুধু গোপাল শেঠ ও বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডল ছিলেন না। ২০-০ ভোটে হেরেছেন গোপাল। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সুরেশচন্দ্র হীরা বলেন, সকালে গোপাল শেঠ চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফার পত্র দিয়েছেন। এদিন আস্থা ভোটের ফলাফল হয়েছে ২০-০। আগামীতে পুরসভার নিয়ম মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। এনিয়ে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, গোপালদার আগেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে পদত্যাগ করা দরকার ছিল। এদিন বনগাঁর মানুষের যে উচ্ছ্বাস ছিল তাতেই বোঝা যাচ্ছে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ভালো ফল করবে। লক্ষ্য নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করা। এদিকে পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডল বলেন, বনগাঁর মানুষ এতদিন নাটক দেখল। নিজেদের দলের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিয়ে যেভাবে উল্লাস করতে দেখা গেল, তাতেই প্রমাণ হয়েছে এরা নিজেরাই নিজেদের শক্র। এনিয়ে গোপালপন্থী কোনও কাউন্সিলার মন্তব্য করেননি। আর গোপাল শেঠের ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ