


নয়াদিল্লি: প্রতি সপ্তাহে জেল সুপারিনটেনডেন্টকে চিঠি লিখতেন। অনুমতি চাইতেন দেখা করার। দীর্ঘ ছ’মাস এই কাজ করে গিয়েছেন। গত শনিবার ভাঙল সেই রুটিন। জেলে গিয়ে স্বামী সোনামের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে শেষ চিঠিটা লিখেছেন গীতাঞ্জলী আংমো। আবেগে ভেসে সেই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন।
জেলে দেখা করতে যাওয়া থেকে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই, প্রথম থেকেই সোনামের পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলী। স্বামীর জেলমুক্তিতে স্বাভাবিক ভাবেই বড় স্বস্তি পেয়েছেন। জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে দু’বার করে জেলে যেতে হত। সেখানে মাত্র কিছুক্ষণের জন্য স্বামীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মিলত। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা অবশেষে থামল।’ তিনি আরও বলেন, এই সময়টা পরিবারের জন্য খুব কঠিন ছিল। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এদিকে ওয়াংচুকের মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাদাখের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তা স্বাগত জানিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর মুক্তি আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়াবে। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, লাদাখে সাংবিধানিক সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার সংক্রান্ত দাবিকে সামনে রেখে ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে সেই সময় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ছয় মাস পর তাঁর মুক্তিতে পরিবার-পরিজন ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ছ’মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন লাদাখের পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুক। শনিবার মোদি সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ আর সোনামকে আটকে রাখা হবে না। স্ত্রী গীতাঞ্জলীর সঙ্গে সোনাম। ছবি পিটিআই।