নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার রাতে তেমন কোনও রান্নাবান্না করেনি স্ত্রী মিতা। আলু সেদ্ধ আর ভাত। তাই খেয়েই রাত কাটে বাড়ির সবার। ওই রাতেই স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েও সে ছিল নির্লিপ্ত। পরের দিনও রান্না-বান্না করে। তবে, খাওয়া-দাওয়া কম করে। শাশুড়ির সঙ্গে দু’ ফোঁটা চোখের জলও ফেলে। মিতাকে দেখে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয়নি নিহত বরুণ দাসের পরিবারের কারও। পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হতেই মিতার আচরণে বিস্মিয় প্রকাশ পরিবারের লোকজন।
শুক্রবার বরুণের মা নমিতা দাস বাড়ির দাওয়ায় বসে বলছিলেন, ‘বউমার আচরণে কোনও অস্বাভাবিকত্ব সেদিন লক্ষ্য করিনি। আমাদের সঙ্গেই বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি করতে বেরিয়েছিল। নিখোঁজের রাতে মেয়েকে নিয়ে কোঠা বাড়িতে শুতেও যায়। পরের দিন পার্টি অফিস, থানায় গিয়েছিল। বউমা পরিকল্পনা করে যে আমার ছেলেকে খুন করবে, তার আচরণে বিন্দু মাত্র আভাস পাইনি।’
গত ৬ জুলাই রবিবার বাড়ি থেকে কিছুদুরে বড় পুকুরের ঝোপে বরুণ দাস (৩১)-এর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। সেদিন তার স্ত্রীকে সন্দেহ করেন পরিবারের সদস্যরা। তারপর পুলিস তাকে আটক করলে বরুণের মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার কথা শোনেন তাঁরা। বরুনের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার সে বলে, বাবার মৃত্যুর খবর মায়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম। তারপর থেকে মা আমাকে আগলে রেখেছিল। পরের দিন থেকে মা আমাকে সব সময় নিজের কাছে রাখত। কোথাও গেলেও সঙ্গে নিয়ে যেত। ভয়ও দেখিয়েছে।
এদিন তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বরুণ, মিতার একটি ফটো অ্যালবাম রয়েছে। সেই অ্যালবামে মিতার কয়েকটি ছবিতে মুখ দাগ দিয়ে অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বরুণের কাকু তাপস দাস বলেন, ‘বরুণের ছেলে খুনের কথা শুনে রেগে তার মায়ের ছবি কলম দিয়ে দাগ কেটে দিয়েছে। ওকে বারণ করা সত্বেও বছর এগারোর ওই বালক ক্ষোভ উগরে দেয় মায়ের বিরুদ্ধে।’
এদিন প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ভিড় জমিয়েছিলেন বরুণের বাড়িতে। তাঁরা একযোগে মিতা ও তার প্রেমিক তন্ময়ের ফাঁসির সাজার দাবি জানাতে থাকেন। বরুণের স্ত্রী ও অভিযুক্ত তন্ময়ের মধ্যে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর সে তন্ময়ের কাছে চলে গিয়েছিলও। পরে আবার বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু তন্ময়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে পথের কাঁটা সরাতে মিতা তন্ময়কে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে। যদিও পুলিসের কাছে মিতা জানিয়েছে, মদ খেয়ে এসে তার সঙ্গে অশান্তি করত বরুণ। ছেলেকে হারিয়ে বিষণ্ণ বরুণ দাসের বাবা-মা (বাঁদিকে)। গ্রেপ্তার হওয়া স্ত্রী মিতা দাসের ফাইল ছবি (ডানদিকে)। নিজস্ব চিত্র