Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোস্তাফি পরিবারে দেবীকে পান্তা-ভোগ

সাতশো বছরের বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে মোস্তাফি পরিবারে। যা কোচবিহার জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম।

মোস্তাফি পরিবারে দেবীকে পান্তা-ভোগ
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট; সাতশো বছরের বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে মোস্তাফি পরিবারে। যা কোচবিহার জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। মৎস্যপুরাণ অনুসারে তালপাতার পুঁথিতে লেখা নিয়ম ও রীতি মেনে পুজোর সব আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়। শুরু থেকেই মোস্তাফি বাড়ির পুজোয় দেবীর গায়ের রং গাঢ় রক্তবর্ণা। সিংহের পাশাপাশি দেবীর বাহন এখানে বাঘ। বাড়ির পুরুষরাই পুজোর সব আয়োজন করেন। ছ’বার স্থান পরিবর্তন হওয়ার পরেও নিষ্ঠার সঙ্গে পরম্পরা ও প্রাচীন রীতি মেনে আজও দেবী দুর্গা পূজিত হন দিনহাটার মোস্তাফি পরিবারে। 

Advertisement

দিনহাটায় তাঁদের পরিবারের এই পুজোর বয়স ৩৬০ বছর। তবে শুধু সময়ের হিসেবে নয়, রীতি রেওয়াজের দিক থেকেও এই পুজো এক পৃথক জায়গা করে নিয়েছে। 
এই পরিবারের প্রবীণ সদস্য সিতাংশুশেখর মোস্তাফি বলেন, ১৬৬৫ সালে তদানীন্তন কোচবিহারের রাজা মদননারায়ণ (মোদনারায়ণ নামেও পরিচিত)-এর আমন্ত্রণে ঢাকার নবাবের দরবার থেকে কোচবিহার রাজ্যে এসেছিলেন রূপচন্দ্রনারায়ণ মজুমদার। সেসময় নবাব প্রদত্ত মজুমদার উপাধি ত্যাগ করে তিনি কোচবিহার অধিপতির দেওয়া মোস্তাফি উপাধি গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ভিতরকুঠি গ্রামে জমিদারি পান। তখন থেকেই তিনি এই পুজো করে আসছেন। পরিবারের অন্যতম সদস্য তমাল মোস্তাফি বলেন, আমাদের বাড়িতে পূজিতা দুর্গা রক্তাবর্ণা। মহিষাসুরের বর্ণ সবুজ, দেবীর বাহন সিংহের পাশাপাশি একটি বাঘও রয়েছে। পুরো পুজো হয় তালপাতার পুঁথিতে লেখা মন্ত্র পাঠ করে। মৎস্যপুরাণ বিধি মেনে চলে পুজো। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী তিনদিনই বলি দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি অবাক করা নিয়ম হল, এই পুজোর আয়োজনে কোনও মহিলা নয়, তা করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরাই। দশমীতে দুধ আর পান্তাভাত দিয়ে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। চলে প্রশস্তি বন্দনাও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ