Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৪ ঘণ্টার মধ্যে শংসাপত্র, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে পেরে খুশিতে কেঁদে ফেললেন দুঃস্থ ছাত্রী

২৪ ঘণ্টার মধ্যে শংসাপত্র, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে পেরে খুশিতে কেঁদে ফেললেন দুঃস্থ ছাত্রী
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, প্রশাসনকে মানবিক হতে হবে। তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জলপাইগুড়ি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইকোনমিক্যালি উইকার সেকশন (ইডব্লুএস) সার্টিফিকেট তৈরি করে দিল জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। আর এরই জেরে এক দুঃস্থ ছাত্রীর কার্যত নিভে যাওয়া স্বপ্ন ধরা দিল তাঁর হাতের মুঠোয়। কোচবিহার গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেললেন সুমনা সরখেল নামে মালবাজারের বাসিন্দা ওই ছাত্রী। প্রশাসনের এই ভূমিকায় যার পর নাই খুশি ছাত্রীর পরিবার। তৃপ্তির ছাপ প্রশাসনের আধিকারিকদের চোখেমুখে। 
Advertisement
জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, জেলা থেকে ব্লকস্তর পর্যন্ত প্রশাসনের প্রত্যেক আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পড়াশোনা, চাকরি সংক্রান্ত শংসাপত্র দিতে যেন এতটুকু দেরি করা না হয়। প্রয়োজনে ছুটির দিনে অফিস খুলে এই কাজ করতে হবে। 
মালবাজার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্যদেব সরখেল। এলাকায় মন্দিরে পুরোহিতের কাজ করেন। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কিন্তু স্বপ্ন, মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করবেন। ময়নাগুড়ি পলিটেকনিক থেকে মেয়ে সুমনা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেছে। তারপর পরীক্ষা দিয়ে ইডব্লুএস কোটায় সুযোগ মিলেছে কোচবিহার গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। 
এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইডব্লুএস সার্টিফিকেট। আগে অফলাইনে এই শংসাপত্র দিত প্রশাসন। এখন অনলাইনে। মেয়ের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে ইডব্লুএস সার্টিফিকেট জোগাড় করেছিলেন সত্যদেব। কিন্তু তা ছিল ২০২৩-’২৪ সালের। ফলে ওই সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে গত ৩১ মার্চ। বিষয়টি না বোঝায় বাড়িতে চুপচাপ বসেছিলেন সত্যদেব। পরে যখন জানতে পারেন, ওই সার্টিফিকেটে মেয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হবে না, তখন মাথায় হাত পড়ে তাঁর। দিন কয়েক আগে অনলাইনে ওই সার্টিফিকেটের জন্য ফের আবেদন করেন। কিন্তু সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর তা জানতে পারছিলেন না তিনি। এদিকে, মঙ্গলবার কোচবিহার গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছিল ‘ওপেন কাউন্সেলিং’। নথিপত্র জমা দিয়ে ভর্তি হতে হবে এদিনই। না হলে সুযোগ হাতছাড়া। 
এই অবস্থায় সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সত্যদেব। বলেন, আমি খুবই গরিব। অনেক স্বপ্ন মেয়েকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বানাব। মেয়ে সুযোগও পেয়েছে সরকারি কলেজে। ইডব্লুএস সার্টিফিকেট পেলে মেয়ে ভর্তি হতে পারবে। 
সবটা শোনার পর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ আধিকারিক প্রবীণ লামা। এবার সামনে আসে অন্য বাধা। সদ্য যোগ দেওয়া এক অতিরিক্ত জেলাশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইডব্লুএস সার্টিফিকেটের জন্য। কিন্তু তাঁর ‘ডিজিটাল সিগনেচার’ এখনও তৈরি হয়নি। ফলে তিনি ওই সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারছেন না। বিষয়টি কানে যায় জেলাশাসক শমা পারভীনের। তিনি নির্দেশ দেন, যেভাবেই হোক মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এডিএমের ডিজিটাল সিগনেচার তৈরি করে মেয়েটির সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেইমতো শুরু হয় তৎপরতা। এদিন সকালেই দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসকের ডিজিটাল সিগনেচার তৈরি হয়ে যায়। দুপুরের মধ্যেই অনলাইনে ইস্যু করা হয় সার্টিফিকেট। ভর্তি হন ওই ছাত্রী।
সম্পর্কিত সংবাদ