Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২ ঘণ্টা দেরি গোমো-চক্রধরপুর মেমু স্পেশালের, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

২ ঘণ্টা দেরি গোমো-চক্রধরপুর মেমু স্পেশালের, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গোমো-চক্রধরপুর দৈনিক মেমু স্পেশাল ট্রেনটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী। চক্রধরপুর ও আদ্রা ডিভিশনের বহু যাত্রী এই ট্রেনটির উপর নির্ভর করেন। পুরুলিয়ার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও ট্রেনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এক সময় এই ট্রেনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সওয়ার হয়েছিলেন। অথচ সেই ট্রেনে এখন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ, ট্রেনটির গুরুত্ব থাকলেও কোভিডের পর থেকেই প্রতিদিন ট্রেনটি দেরিতে চালানো হচ্ছে। ট্রেনটি প্রতিদিন ৯০ থেকে ১২০ মিনিট দেরিতে চলাচল করছে। যার ফলে বহু মানুষ সমস্যায় পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে নিত্যযাত্রীরা সরব হয়েছেন। রেলের কাছে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
Advertisement
আদ্রার ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, ট্রেনটি আদ্রা ডিভিশনে প্রায় সঠিক সময়েই চলাচল করে। চক্রধরপুর ডিভিশন থেকে ট্রেনটির পরিষেবা চালু রয়েছে। ট্রেনটির চলাচলের ক্ষেত্রে ওই ডিভিশনে কিছুটা সমস্যা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনও অভিযোগ আসেনি। তবু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আদ্রা ডিভিশনে কোনও লোকাল, মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন সঠিক সময় চলাচল করে না। আবার ওড়িশার বাহানাগায় রেল দুর্ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ সহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। তার জন্য কার্যত প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ব্লক নেওয়া হচ্ছে। ফলে যে কটি লোকাল, মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল করছে, তার বেশিরভাগ ট্রেন প্রায় দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোমো-চক্রধরপুর ট্রেনটিকে প্রতিদিন সময়ে না চালিয়ে তার আগে ও পরে কয়েকটি মালবাহী ট্রেন চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমস্তটা রেল নিজের মুনাফার জন্য করছে। আদ্রা ডিভিশনের সবচেয়ে পুরনো ট্রেনটি টাটা, সুদামডি, সাঁওতালডিহি, আদ্রা, আনাড়া, বরাভূম, চাণ্ডিল চক্রধরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে স্টপেজ দেয়। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৫ টায় চক্রধরপুর থেকে ছাড়ে। ট্রেনটি ৩৮টি স্টেশনে স্টপেজ দেয়। ২৩৭ কিমি পথ অতিক্রম করে দুপুর ১টা নাগাদ গোমোয় পৌঁছনোর কথা। কিন্তু, দেড় থেকে দু’ঘণ্টা দেরিতে সেখানে পৌঁছয়। আবার বিকেল ৩টে নাগাদ গোমো থেকে ছেড়ে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ চক্রধরপুর স্টেশনে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু, প্রতিদিন রাত প্রায় ১২টা বেজে যায় বলে অভিযোগ। ফলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
নিত্যযাত্রী সুজয় মাহাত, চন্দন রক্ষিত, অর্চনা কুমার বলেন, ট্রেনটি পুরুলিয়া জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাকরিজীবী মানুষজন ট্রেনটির উপর ভরসা করেন। শুধু তাই নয়, টাটার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেনটি বিশেষ কাজে আসে। কিন্তু, বর্তমানে ট্রেনটি কোনওদিনই সময় মতো চলাচল করে না। ফলে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। ট্রেনটির পরিষেবা কবে ঠিক হবে, সেই দিকেই সকলে তাকিয়ে রয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ