বার্লিন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ছিলেন মার্গট ফ্রেডল্যান্ডার। চোখের সামনে দেখেছেন হলোকাস্টের ভয়াবহ ছবি। সেই যাত্রায় অবশ্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তারপর গণহত্যার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে ছিলেন। শুক্রবার ১০৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন মার্গট। যদিও মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্যাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেনমেয়ার।
১৯২১ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই ইহুদি মহিলা। বাবা বার্লিনে দোকান দিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হয়ে লড়াইও করেছিলেন। নাৎসিরা ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভেবেছিলেন, আমরা তো জার্মান। ওরা আমাদের কিছু করবে না।’ কিন্তু এই ধারণা বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। বাকিদের মতো হিটলার বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়েছিল এই ইহুদি পরিবারটি। ১৯৪৪ সালের এপ্রিলে পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হন। ইহুদি পরিচয় দিতেই ঠাঁই হয় তেরেসিন্শট্যাডট কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে। সেখানেই সাক্ষাৎ মৃত্যুকে চাক্ষুস করেছিলেন মার্গট। শিবির থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিয়ে করেন অ্যাডল্ফ ফ্রেডল্যান্ডারকে। কিছুদিন ত্রাণ শিবিরে থাকার পর দু’জনেই পাড়ি দেন নিউইয়র্কে। সেখানেই কেটে যায় জীবনের ৫৭ বছর। ১৯৯৭ সালে ৮৭ বছর বয়সে অ্যাডল্ফের মৃত্যু হয়।
তারপর ২০০৩ সালে আচমকা জার্মানি ফিরে আসেন মার্গট। বার্লিন সিটি হলে তাঁকে সংবর্ধনা জানায় প্রশাসন। ২০১০ থেকে বার্লিনেই কাটিয়েছেন জীবনের শেষ কয়েকটি বছর। ২০১৮ সালে বার্লিনের ইহুদি মিউজিয়ামের এক অনুষ্ঠানে মার্গট বলেছিলেন, ‘আমি শুধুমাত্র ৬০ লক্ষ নিহত ইহুদির হয়ে কথা বলছি না। প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির হয়ে আওয়াজ তুলছি। নিরীহ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’