Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্যাজেট না মাসাজার? উপহারে নতুনত্বই ট্রেন্ডিং ভাইফোঁটায়

৮-১০ ঘণ্টা অফিসে বসে কাজ করে কিংবা বাইক-গাড়ি চালিয়ে বেশিরভাগ মানুষেরই ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা। তাঁরা ভাইফোঁটায় উপহার পাচ্ছেন ইলেকট্রনিক ‘মাসাজার’।

গ্যাজেট না মাসাজার? উপহারে নতুনত্বই ট্রেন্ডিং ভাইফোঁটায়
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৮-১০ ঘণ্টা অফিসে বসে কাজ করে কিংবা বাইক-গাড়ি চালিয়ে বেশিরভাগ মানুষেরই ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা। তাঁরা ভাইফোঁটায় উপহার পাচ্ছেন ইলেকট্রনিক ‘মাসাজার’। এবছর এই গিফট কেনারই ধুম। বুধবার বিকেলে ভবানীপুরে মিষ্টি কিনতে এসে এক মধ্যবয়স্ক মহিলা বললেন, ‘আমার দাদা তো এ বছর রিটায়ার করলেন। তাঁর এখন একটা স্মার্ট ওয়াচ পরার ইচ্ছা হয়েছে। তাই ছেলেকে বললাম, যা মামার জন্য একটা কিনে আন।’ চলতি বছর ভাইফোঁটায় উপহারে কার্যত বিপ্লব। জামাকাপড় দেওয়া এখন ব্যাকডেটেড। কারণ সবে পুজোয় নতুন জামা হয়েছে। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় গ্যাজেটই আজকাল উপহারের তালিকার শীর্ষে।

Advertisement

উত্সবের আল বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাঙালি মোটামুটি এসে পৌঁছেছে দিগন্তে। এবার ভাইফোঁটা। উত্সব মানেই উপহার। খাওয়া-দাওয়া। আনন্দ। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাঙালি গৃহস্থ বাড়ি থেকে ভেসে আসবে শঙ্খধ্বনি। ভাই-বোনের বন্ধন উদযাপনে মেতে উঠবে আট থেকে আশি। সেই উদযাপন স্মৃতিতে উজ্জ্বল করে রাখার জন্য প্রয়োজন মিষ্টি আর উপহার। সে সব কিনতেই বুধবার বাজারে উপচে পড়া ভিড়।
চাকুরে হোক বা ব্যবসায়ী, দাদা-ভাইদের কাছে একটা স্মার্ট ওয়াচ কিংবা আধুনিক হেডফোন আজকাল খুবই প্রয়োজনের। এগুলি যে শুধু যুবক-যুবতীরা ব্যবহার করেন এমনটা নয়। ফলে কিনছেন মধ্যবয়সিরাও। তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে দাম দেখে আসছেন চাঁদনির দোকানগুলিতে। এক তরুণী বলেন, ‘এখন অর্ডার দিলে অত তাড়াতাড়ি আসবে না। তাই ব্লুটুথ হেডসেট কেনার জন্য দোকানেই এলাম।’ গ্যাজেটের সঙ্গেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছোট আকারের মাসাজার। আর যাঁরা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের বাইরে গিয়ে একটু ‘আলাদা’ কিছু করতে চান। তাঁরা হাঁটছেন হস্তশিল্পের পথে। মাটির শোপিস, কাপ বা বাহারি গাছ এখন গিফট ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলের কর্মচারির কথায়, ‘এখন ওয়ালেট, ব্যাগ অনেকটাই সেকেলে। তবে পারফিউম সবসময়ই ট্রেন্ডিংয়ে থাকে। আধুনিক টবে বসানো গাছও কিনছেন অনেকে।’
উপহার কেনায় পাল্লা দিচ্ছেন দাদা-ভাইরাও। গড়িয়াহাট বাজারে কসবার বাসিন্দা সুদিন বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘বছরে এই একদিন বোন রান্না করে। তাও আবার ইউটিউব দেখে। সে আনাজ আর মশলার তালিকা হোয়াটসঅ্যাপ করে দিয়েছে। তাই মিলিয়ে কিনছি।’ এদিকে দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলের বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ অপেক্ষা করছিলেন তাঁর বান্ধবীর জন্য। বললেন, ‘দিদিকে গিফট দিতে হবে। কসমেটিক্সের দোকানে গিয়ে কিছুই বুঝতে পারি না। তাই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। কী দেব ভাবতে ভাবতে সময় চলে এসেছে। অনলাইন অর্ডার করা হয়নি। তাই দোকানে যেতেই হবে।’         
সকলের আবার ভাইয়ের কপাল ছুঁয়ে ফোঁটা দেওয়ার সুযোগ হয় না। আবার উল্টোটাও, বোনের হাত থেকে ফোঁটা নেওয়ার উপায় নেই অনেক ভাইয়ের। চাকরি সূত্রে শহর কিংবা দেশের বাইরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের জন্য ডিজিটাল ফোঁটাই একমাত্র উপায়। আবার অনেকেই বিবাহসূত্রে শহরের বাইরে চলে যান। তাই গিফটের খাতায় ‘বাকি’র তালিকা বাড়তেই থাকে। তবুও ডিজিটাল কল্যাণে অন্তত চোখের দেখা হয়েই যায় আজকাল। এই শ্রেণি মূলত উপহার অর্ডার করছেন অনলাইনে। সেই তালিকাতেও এগিয়ে মাসাজার এবং ডিজিটাল ওয়াচ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ