সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ঘরে বসেই মোটা টাকা ইনকাম! শিলিগুড়িতে এমন টোপ দিয়েই প্রতারণার জাল বিস্তার করছে চক্রীরা! অভিযোগ, গরিব গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়েই প্রতারকরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার টাকা বিনিময়, মানি লন্ডারিং, বেআইনি মাদক কারবার ও কালো টাকার লেনদেন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ব্যাঙ্কের পরিভাষায় এগুলি ‘মিউল’ অ্যাকাউন্ট। প্রতারণার এমন নয়া কৌশল নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন মহল। ফাঁসিদেওয়ার মানি লন্ডারিং চক্রের হদিশ মেলার পরই বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন অভিযোগ পাচ্ছে পুলিস। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এনিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায়। তারা আমজনতাকে সচেতন করতে প্রচার অভিযানে নেমেছে।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা শিলিগুড়ি। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় প্রতারণা চক্র। কখনও কলসেন্টার খুলে অনলাইনে, আবার কখনও গচ্ছিত টাকা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। এবার শহর ও গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেন শুরু করছে চক্রীরা।
পুলিস সূত্রে খবর, ঘরে বসেই মাসে আয় করা যাবে মোটা অঙ্কের টাকা। এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন সহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার সাঁটা হয়েছে। তাতে সাড়া দিয়েই সংশ্লিষ্ট প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ছেন নিরীহ মানুষ। মাসে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছে প্রতারকরা। অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ বাসিন্দাদের ভুল বুঝিয়েও এরা ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলাচ্ছে। অনলাইনে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে এই চক্রীরাই। ফলে সেগুলির লেনদেন সম্পর্কে নিরীহ বাসিন্দারা পুরোপুরি অন্ধকারে।
ফাঁসিদেওয়ায় মূল চক্রের হদিশ মেলার পর বিভিন্ন এলাকা থেকেই অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিতে টাকার টোপ দেওয়ার অভিযোগ মিলেছে। দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, মিউল বা সারোগেটেড অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফাঁসিদেওয়াতেও কয়েকজন অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন প্রতারণার টাকা লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেটের এক অফিসার অবশ্য বলেন, পুলিস সতর্ক রয়েছে। বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।
কীভাবে চলছে এই কারবার? ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছে চক্রীরা। এরপর নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে তারা অ্যাকাউন্টগুলিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে লেনদেন করছে অসংখ্যবার। সম্ভবত অনলাইন প্রতারণা, মাদক কারবার, মানি লন্ডারিং থেকে অর্জিত বিপুল অঙ্কের টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে ‘সাদা’ করা হচ্ছে। ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন হওয়ায় তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ অপরাধ দমন শাখার নজর এড়াতেই ‘মিউল’ অ্যাকাউন্টে লেনদেন করছে চক্রীরা। তবে কমিশনের লোভে অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ ফাঁসছে। শিলিগুড়ির লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজেশ কুমার বলেন, গোটা দেশেই এধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করছে চক্রীরা। তাই কেউ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য চাইলে দেওয়া যাবে না। এনিয়ে সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে।