নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি। বর্তমানে এই ধরণের অপরাধ অনেকটাই কমছে। কিন্তু, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি না করে সাইবার প্রতারকরা অনলাইনে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বয়স্কদের সঙ্গে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীরাও। তাই সাইবার প্রতারণা নিয়ে সচেতনতায় নেমেছে বিধাননগর কমিশনারেট। বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে পাড়ায় সাইবার সচেতনতা করছে পুলিস। নাগরিকদের কী কী করণীয়, বিপদে পড়লে কী করবেন, এই সমস্ত পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিস অফিসাররা। ফলে, অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। পুলিসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরের নাগরিকরাও।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফোন করে এটিএমের পিন নম্বর হাতিয়ে প্রতারণার ঘটনা এখন সকলের পরিচিত। তাই প্রতারকরা প্রতি দিন নতুন নতুন কৌশল সামনে নিয়ে আসছে। তারা প্রবীণ নাগরিকদেরকেই বেশি টাগের্ট করছে। ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট, বেড়াতে যাওয়ার জন্য গিফট কুপন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রভৃতি অপরাধের শিকার হচ্ছেন প্রবীণরা। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা পা দিচ্ছেন পরিশ্রম না করে রোজগারের ফাঁদে পা দিয়ে। যেমন, টেলিগ্রাম গ্রুপে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত মুনাফা প্রভৃতি প্রতারণায়। তবে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট সব বয়সিরাই ফাঁসছেন। বর্তমানে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণা বেড়েও গিয়েছে। সেক্সটরশন প্রতারণাতেও ফাঁসছেন সব ধরনের মানুষ।
সাইবার ও মহিলা থানা মিলিয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে ১৫টি থানা রয়েছে। বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে এক একটি পাড়াকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেখানে অফিসাররা গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে বসে সচেতন করছেন। কমিশনারেটের দাবি, ফোনে কাউকে কোনও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। ব্যাঙ্কের অফিসার বলে কেউ ফোন করলে আগে যাঁচাই করুন। তারপর কথা বললেন। কোনও ধরনের লিঙ্কে ক্লিক করা চলবে না। কুপন, উপহারের টোপ পেলে প্রত্যাখান করুন। অল্প দিনে অতিরিক্ত লাভের আশায় অনলাইনে বিনিয়োগ করার আগে সতর্ক হন। ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু নেই। পুরোটাই প্রতারকদের বানানো। তাই এই ধরনের ফোন এলে ভয় পাবেন না। সেক্সটরশনের ফাঁদে পা দেবেন না। যদিও কেউ সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে যান, তাহলে দেরি না করে দ্রুত পুলিসের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান। সম্ভব হলে প্রথমে কেন্দ্রীয় পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন। তারপর স্থানীয় থানায় যান।