বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে যে কোনও রকমের প্রতারণার খপ্পরে পড়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি নিশ্চিতভাবেই অনেক গুণ বেশি। এই ইস্যুতে গ্রাহকদের উদ্বেগ এবং হয়রানি কমাতে নতুন পরিষেবা চালু করতে চলেছে ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক বা আইপিপিবি। তাদের গ্রাহকরা যদি এই ব্যাঙ্কে লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হন, তাহলে তাঁরা সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। সেই সুবিধাই আনছে আইপিপিবি। এই বিষয়ে সাধারণ বিমা সংস্থা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই টেন্ডারের প্রস্তুতি শুরু করেছে তারা। পরিষেবা চালু হলে, তার আওতায় চলে আসবেন প্রায় ১১ কোটি গ্রাহক, যাঁদের অ্যাকাউন্ট আছে এই ব্যাঙ্কে।
কতটা বাড়ছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশে ব্যাঙ্ক গ্রাহকরা প্রতারিত হয়েছেন, এমন ঘটনার সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। প্রতারণার মোট অঙ্ক ছিল ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই প্রতারণার অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকায়। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, গত অর্থবর্ষের থেকে ঢের বেশি টাকার প্রতারণা হয়েছে এবছরের ছ’মাসেই। সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার। এই সব হিসেবই ১ লক্ষ টাকার বেশি প্রতারণার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ তার তুলনায় কম অঙ্কের হিসেব সামনে এলে প্রতারণার অঙ্ক যে বহু গুণ বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। আলাদা করে ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক নিয়ে কোনও তথ্য সামনে আসেনি ঠিকই, কিন্তু এখানেও প্রতারণার সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। তাদের তথ্য বলছে, শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই এই ব্যাঙ্ক মারফত ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ১ কোটি ৭৪ লক্ষের বেশি। মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সেটাই প্রায় ২১ লক্ষ ৬৩ হাজার।
ভারতীয় ডাক বিভাগের আওতায় ২০১৮ সালে শুরু হয় আইপিপিবি’র পরিষেবা। দেশের প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার ডাকঘরে এই ব্যাঙ্কের পরিষেবা পাওয়া যায়। ডাকঘরের কাউন্টারগুলির পাশাপাশি প্রায় দেড় লক্ষ মাইক্রো এটিএম চালু রেখেছে এই পেমেন্টস ব্যাঙ্ক, যেখানে বাড়ি বসে অনলাইন পরিষেবা পান গ্রাহক। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, যেহেতু সব পেমেন্টই ডিজিটাল ভিত্তিক, তাই প্রতারণার আশঙ্কাও অনেক বেশি। সেই কারণেই বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে প্রতারণা সংক্রান্ত বিমার আওতায় আনা হচ্ছে। তবে সেই পরিষেবা পেতে গেলে বাড়তি ফি দিতে হবে কি না, সেই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানানো হয়নি। কবে থেকে পরিষেবা চালু হবে, তাও এখনও স্পষ্ট করেনি তারা। তবে যেহেতু টেন্ডার ডাকার উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তাই শীঘ্রই এই বিষয়ে এগবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। আগামী অর্থবর্ষেই এই পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা আছে। বছরে ন্যূনতম আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি প্রিমিয়াম জমা পড়ে যে সংস্থায়, এমন সংস্থাকেই টেন্ডারে ডাকা হবে বলে খবর। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, কোন কোন ক্ষেত্র বিমার আওতায় আসবে, সেই বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার বাইরেও যদি কোনও পন্থায় প্রতারণা হয়ে থাকে, তাহলে তাকেও এই সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।