সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভারতীয় সেনা বাহিনীর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’য়ের ছক করেছে প্রতারকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা টাকা জমা দেওয়ার আবেদন করেছে। বিভিন্ন গ্রুপে তারা সেই আবেদনপত্র ভাইরাল করেছে। তাতে তারা লিখেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিদিন এক টাকা জমা করুন। ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আহত সৈনিদের জন্য এই টাকা খরচ করা হবে। অস্ত্র কিনতেও টাকা খরচ করা হবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটা প্রতরণার ছক। এধরনের ক্রাউড ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেয়নি। প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে অক্ষয় কুমারের নাম দেওয়া হয়েছে। সেটাও ভুয়ো।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হলে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হতো। সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো। কিন্তু সেসব হয়নি। পুরোটই ভুয়ো। ওরা একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছে। তাতে কেউ যাতে টাকা না দেয় তারজন্য প্রচার করা হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও সাইবার প্রতারকরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর নামে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছে। আর্মিদের ব্যবহার করা সামগ্রী কম দামে বিক্রির আশ্বাস দিয়ে তারা প্রতরণার জাল ছড়িয়েছিল। তাতে অনেকের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। লাগাতার প্রচারের পর প্রতারকদের ওই অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গিয়েছে। পহেলগাঁওয়ে হামলার পর ভারত সরকার প্রত্যাঘাতের হুঙ্কার দিয়ে রেখেছে। জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে। সীমান্তে সেনাবাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে।
আধিকারিকদের মতে, এই সময় আমজনতা সর্বোতভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে। যে কোনও ধরনের সহযোগিতার জন্য আমজনতা তৈরি রয়েছে। সেই আবেগ প্রতারকরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। প্রতারকরা ভাইরাল করা লিফলেটে লিখেছে, আমজনতার পরামর্শেই ভারত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা পরামর্শ দিয়েছিল। তারা লিফলেটে একাধিক ব্যাঙ্কের নাম উল্লেখ করেছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার হিসেবে ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ফান্ড ব্যাটেল ক্যাসুয়ালিট’ বলে উল্লেখ রয়েছে। দিল্লিতে ওই ব্যাঙ্কের একটি শাখা থেকে ওই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে’। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই লিফলেট অধিকাংশ নেটিজেন প্রত্যাহার করেছে। এক ব্যক্তি লিখেছেন, কোনও ফান্ডিং ভারত সরকার চায়নি। যে অ্যাকাউন্ট নম্বর লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে সেটি সরকারের নয়। প্রতারকরা সেনাবাহিনীর নাম করে টাকা তোলার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তারা সেনাবাহিনীর সম্মান নিয়ে খেলা করছে। পুলিসের এক পদস্থ অফিসার বলেন, এখনও লিখিত অভিযোগ কোথাও জমা পড়েনি। তবে বিষয়টির উপর নজর দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে টাকা তোলা হচ্ছে না। সেটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনও ধরনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না