নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবীন্দ্র সদনে ইস্ট বেঙ্গলের তথ্যচিত্র প্রকাশের অনুষ্ঠান। ভরা মঞ্চে লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্টকে কার্যত ধমক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিনিয়র ফুটবল দলের ব্যর্থতায় হতাশ লক্ষ লক্ষ সমর্থক। হাল ফেরাতে শক্তিশালী দলগঠনের পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তার নিশানায় আসলে লগ্নিকারী সংস্থা। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটি দিন। দলবদলের মরশুমে লাল-হলুদের অন্দরমহল কি এখনও ঘুমিয়ে? সূত্রের খবর, হইচই নয়। বরং নিঃশব্দে ঘর গোছানোর চেষ্টায় ইস্ট বেঙ্গল।
ভারতীয় ফুটবলে এই মুহূর্তে একচ্ছত্র দাপট মোহন বাগানের। কামিংস, ম্যাকলারেনদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সহজ নয়। তবে শক্তিশালী দল গড়লে আখেরে উপকৃত হবে বাংলার ফুটবল। সমর্থকমহলে উদ্বেগ, ‘বাজেট আদৌ বাড়বে তো?’ এই প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ ইনভেস্টরদের। ভুলভাল বিদেশি নির্বাচন ইস্ট বেঙ্গলের বড় সমস্যা। প্রতিটি পজিশনে গেমচেঞ্জার প্রয়োজন। নতুন মরশুমে চার বিদেশি বদল হচ্ছেই। বাকি দু’টি স্লট নিয়ে রয়েছে সামান্য জটিলতা। সাউল ক্রেসপো ও দিয়ামানতাকোসের সঙ্গে লম্বা চুক্তি থাকায় ছাঁটাই সহজ নয়। কিন্তু শাঁসালো টাকা পেলেও তাঁদের পারফরম্যান্স পাতে দেওয়ার মতো নয়। এই মুহূর্তে সাউল ও দিমি লাল-হলুদের গলার কাঁটা। মাঠের বাইরে প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিন্তার কারণ। শৃঙ্খলা বা শাসনের অভাবে ভুগতে হচ্ছে গোটা দলকে। অবিলম্বে কড়া হাতে রাশ ধরার লোক প্রয়োজন। থংবই সিংটোকে ‘হেড অব ফুটবল’ করা হলেও প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। সেক্ষেত্রে দ্রুত ভাবনাচিন্তা করা উচিত টিম ম্যানেজমেন্টের। ক্লাব কর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘আর্থিক সমস্যার কারণেই তো লগ্নিকারী সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছি। আগামী মরশুমের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। আশা করি, ওঁরা বিবেচনা করবেন। সবাই মিলে একসঙ্গে লড়তে হবে।’ পাশাপাশি কয়েকজন নতুন ভারতীয় ফুটবলার রয়েছেন ইস্ট বেঙ্গলের র্যাডারে। পাঞ্জাবের লেফট উইং ব্যাক অভিষেক সিং ও নিখিল প্রভুকে অফার করা হয়েছে। কিন্তু প্রভুকে ছাড়তে নারাজ পাঞ্জাব। কেরল ব্লাস্টার্সের ভিবিন মহাননও নজরে রয়েছেন। স্টপার এবং উইং ব্যাকও চেয়েছেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। এজেন্টদের সঙ্গে কথা চালাচ্ছেন থংবই।