Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, পুলিসের জালে চার

এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নামমাত্র টাকায় তাঁর জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘোলা থানা এলাকার

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, পুলিসের জালে চার
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নামমাত্র টাকায় তাঁর জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘোলা থানা এলাকার। পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বিলকান্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যার স্বামী এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। ওই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী পরিমল হালদার এবং তাঁর সঙ্গী মৃণাল খান, মিঠুন বিশ্বাস ও রিয়াজুল হক নামে মোট চার অভিযুক্তকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালত তাদের চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, স্থানীয় যোগেন্দ্রনগরের বাসিন্দা সঞ্জীব সমাদ্দার সেলাই মেশিনের ব্যবসা করেন। ধৃত রিয়াজুলের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। ওই সূত্রে রিয়াজুল তাঁর কাছে টাকা পাবে বলে দাবি করত। এনিয়ে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। পুলিস অভিযোগ পেয়েছে, রিয়াজুল ২২ এপ্রিল রাত ৮টা নাগাদ সঞ্জীবকে ফোন করে মুড়াগাছায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় মৃণাল খানের কারখানায়। পরিমলের নেতৃত্বে সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। ২ লক্ষ টাকাও দাবি করা হয় সঞ্জীবের কাছে। কিন্তু তিনি তা দিতে পারবেন না বলায়, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং নিয়ে যাওয়া হয় পাশের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে। এমনকী, খুনের হুমকি দিয়ে রাতভর তাঁকে বেঁধেও রাখা হয় সেখানে। 
পুলিস জেনেছে, যোগেন্দ্রনগরে সঞ্জীবের নিজস্ব জমি রয়েছে। ওই জমির বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ওই জমি মাত্র ১৭ লাখে রফা করে অভিযুক্তরা। এরপর ২৩ তারিখ সকালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলিল তৈরি করে সঞ্জীবকে দিয়ে সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আতঙ্ক কাটিয়ে পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সঞ্জীব ঘোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, পরিমল হালদার একজন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য। তিনি দু’বার জিতেছিলেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রীই স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা। পরিমলের ছেলে আবার নিউ বারাকপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। 
এই বিষয়ে বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং খড়দহ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুকুর আলি বলেন, ‘আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’ তবে পরিমল হালদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ