নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বৃদ্ধ শ্রমিক খুনের মামলায় ফেরার চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি এনজেপিতে। দীর্ঘ সাড়ে চারমাস ধরে অভিযুক্তরা অধরা। অভিযোগ, তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় মহম্মদ জহুরিকে পিটিয়ে খুন করে অভিযুক্তরা। পুলিসের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দিয়েছে জলপাইগুড়ি সিজেএম আদালত। ইতিমধ্যে পুলিস হুলিয়ার নোটিস বিভিন্ন এলাকায় সাঁটিয়ে দিয়েছে। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের নাম মহম্মদ অজগর আলি ওরফে মিস্টার, মহম্মদ উজালে, মহম্মদ ইজাস ওরফে সিকান্দার ও মহম্মদ মুন্না। এনজেপির রাজাহোলিতে এদের বাড়ি। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ওই খুনের মামলায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছে আদালত। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সাড়ে চার মাস আগে ওই বৃদ্ধ খুনের ঘটনা নিয়ে এনজেপি থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়। যারমধ্যে একটি অভিযোগ খুন হওয়া বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের। পুলিস সূত্রের খবর, বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম রয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে এক মাসের মধ্যে ছয় অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিস। বাকি চার অভিযুক্তের নাগাল এখনও পায়নি। ফেরার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট জারি করে। তাতেও লাভ হয়নি। এরপর পুলিসের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত ফেরার চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দেয়।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সিজেএম আদালতের হুলিয়া জারির ওই নির্দেশিকার প্রতিলিপি অভিযুক্তদের বাড়ি গেটে এবং তাদের কর্মস্থলে সাঁটিয়ে দেয় পুলিস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেরার অভিযুক্তরা পেশায় শ্রমিক। রাজাহোলি এলাকার পাশেই ট্রাকস্ট্যান্ড তাদের কর্মস্থল। সেজন্য অভিযুক্তদের বাড়ি, ট্রাকস্ট্যান্ড এবং এনজেপি থানার নোটিস বোর্ডে ওই নির্দেশিকার প্রতিলিপি সাঁটা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা ধরা না পড়লে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আইন অনুসারে অভিযুক্তদের সম্পত্তি ক্রোক করা হতে পারে।
পুলিসের এক অফিসার জানান, আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এতেও অভিযুক্তরা ধরা না পাড়লে তা আদালতের কাছে জানানো হবে। এরপর আদালত যা নির্দেশ দেবে সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তদের খোঁজে স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী জেলাগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের সম্পত্তির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই সেই সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর এনজেপির রাজাহোলিতে খুন হন মহম্মদ জহুরি। তিনি পেশায় শ্রমিক ছিলেন। অভিযোগ, তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় বাড়ির সামনে তাঁকে বেধড়ক পেটানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়। যদিও ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস জানিয়েছিল, তাস খেলার আসরে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাঁধে। এক-দুই কথায় উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। তাতে আহত ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।