নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের বিএলও অ্যাপে ফিরে এল পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম যাচাই ও ভোটারদের তালিকায় ম্যাপিং বা আনম্যাপিংয়ের অপশন। এর আগে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের এই ক্ষমতা দেওয়ার পরও তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল কমিশন। সমালোচনার মুখে ফের অ্যাপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এই অপশন।
এই বিশেষ ট্যাব ফিরে আসায় বিএলওরা আগের মতোই আপলোড করা কোনও ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে সন্দেহ হলে তা যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন। চাইলে তাঁরা কোনও সন্দেহজনক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদও দিতে পারবেন। এছাড়াও অ্যাপে একাধিক অপশন বা ট্যাব আগের মতো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিএলও তাঁর বুথে কতজন ভোটার অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেছেন, তা অ্যাপে একটি বিশেষ ট্যাব মারফত যাচাই করতে পারতেন। হঠাৎ করে তা তুলে নেওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বিএলওদের। অ্যাপে সেই ট্যাবও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে বিএলওরা তাঁদের বুথে কতজন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেছেন, তা ফের যাচাই করতে পারবেন। সেই সঙ্গে আ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘ড্যাশবোর্ড’ নামে নয়া একটি ট্যাব। এই ড্যাশবোর্ডের ট্যাবে ক্লিক করে বিএলওরা বুঝতে পারবেন, তাঁদের হাতে থাকা কত ফর্ম ‘ডিজিটাইজড’ হয়েছে এবং কত বাকি রয়েছে। বিএলওদের দাবি, এই ট্যাবগুলি ফিরিয়ে দেওয়ায় সুবিধা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু যত সময় এগচ্ছে, ডিজিটাইজেশনের চাপ বাড়ছে। আরও কিছু দিন আগে এই অপশনগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হলে কাজে আরও সুবিধা হত। এদিকে, রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে ঢুকে বিএলওদের ধরনার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল কমিশন। অবিলম্বে সিইও অফিসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে তারা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে যাতে সিইও অফিসের ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে কলকাতার সিপি-কে। সিইওর হস্তক্ষেপে বিক্ষোভরত বিএলওরা মঙ্গলবারই কমিশনের অফিসের বাইরে চলে গিয়েছেন। এখন সিইও অফিসের বাইরের রাস্তায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছেন তাঁরা।