নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: এসআইআরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার বাঁকুড়া জেলা চষে বেড়ালেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তৃণমূল নেতা মানসবাবু দলের হয়ে এসআইআরের কাজ পর্যালোচনা করতে বাঁকুড়ায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিন তিনি ব্লকে ব্লকে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এদিন তিনি বাঁকুড়া-১ ব্লকের ধলডাঙা, ওন্দার রতনপুর, পুনিশোল, জঙ্গলমহলের সিমলাপাল, সারেঙ্গা, রাইপুর ও খাতড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় যান। তাঁর সঙ্গে জেলা তৃণমূলের নেতা-নেত্রী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন। জঙ্গলমহলে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে মানসবাবু উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রানিবাঁধ ব্লকের রাউতোড়া অঞ্চলে একাধিক আদিবাসী পরিবার এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে রাজি হচ্ছেন না। তাঁদের ফর্ম পূরণের ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে বলে সেচমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মানসবাবু বলেন, এজেলায় এসআইআরের কাজ ভালো চলছে। শেষ মুহূর্তে কিছু জায়গায় কাজের গতি বাড়ানো প্রয়োজন। দলের কর্মীদের উৎসাহ দিতে আমি বাকি দিনগুলিতে জেলায় ঘুরব। দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে মাঝেমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ডাউন হয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে দিনের বেলায় ইনিউমারেনশ ফর্ম আপলোড করা যাচ্ছে না। রাত জেগে বিএলও-রা ফর্ম ডিজিটাইজেশন করছেন। তার ফলে তাঁদের উপর চাপ বাড়ছে। আমাদের দলের বিএলএ-টু’রা বুথ লেভেল অফিসারদের সাহায্য করছেন। আমি এদিন দলের ভোট রক্ষা শিবিরগুলি পরিদর্শন করেছি। গ্রামেগঞ্জে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খোঁজ নিয়েছি। ভিন রাজ্য থেকে একদল লোক এসে রানিবাঁধের কয়েকটি আদিবাসী পরিবারকে ভুল বুঝিয়েছে। ফলে তারা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে চাইছেন না। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের তরফেও আমরা ওই পরিবারগুলিকে বুঝিয়েছি। কারা আদিবাসীদের ভুল বোঝাচ্ছে, সেব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সারাবছর মানুষের পাশে থাকে। সেই কারণেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে জঙ্গলমহলে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, দু-একটি ঘটনা ছাড়া বাঁকুড়ায় এসআইআরের কাজ মোটের উপর নির্বিঘ্নেই চলছে। বুথ লেভেল অফিসারদের সিংহভাগই ৯০ শতাংশের উপরে কাজ করেছেন। কিছু বুথে ইনিউমারেশন ফর্ম আপলোড ঢিমেতালে চলছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফর্ম আপলোড করতে সমস্যা হচ্ছে বলে বিএলও-রা অভিযোগ করেছেন। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা আশাবাদী। এদিন মানসবাবু বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে জঙ্গলমহলে যান। ওই রাস্তা সংস্কারের একবছরের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা কোনও বেয়াদপ ঠিকাদার সংস্থাকে রেয়াত করব না। স্বল্প দিনের মধ্যে রাস্তাঘাট খারাপ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকেই তা মেরামত করে দিতে হবে।