


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষত গঙ্গায় নদী পর্যটনের জন্যে এ রাজ্যে যে বিদেশিরা আসছেন তাঁরা গুপ্তিপাড়া যেতে চাইছেন। সে কারণে নদী পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে এ জায়গাকে সাজিয়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এবং পর্যটন সংস্থাগুলি। তারা এ নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট আধিকারিকরা ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন। সেখানে রিভার ট্যুরিজমে যুক্ত একাধিক সংস্থা গুপ্তিপাড়াকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে আগ্রহ দেখায়। পরিকাঠামোগত কিছু সংস্কারের দাবিও রাখে।
বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অসীম মাঝি বলেন, ‘আমরা একাধিক প্রস্তাব রেখেছি। একাধিক ট্যুর অপারেটর রিভার ট্যুরিজমের আওতায় বলাগড়কে রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিদেশি পর্যটকরা বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ার রামমন্দির, বৃন্দাবনচন্দ্র মন্দির, সেন রাজার প্রাসাদ, গুপ্তিপাড়ার মৃৎশিল্প নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে। রাজ্য সরকারও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।’ পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, ‘২০১৫ সালে তদানীন্তন সাংসদ রত্না দে নাগ বিষয়টি সংসদে তুলে কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ করেনি। বর্তমানে বিদেশিদের আগ্রহের কারণে রাজ্য সরকার তৎপর হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গুপ্তিপাড়ার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে।’
কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত রিভার ট্যুরিজমকে সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে আসছে একটি সংস্থা। পর্যটন মরশুমে তাদের ক্রুজ সাফারিতে প্রায় ছ’হাজার বিদেশি পর্যটক গঙ্গাপথে ভ্রমণ করেন। সংস্থার অন্যতম কর্মকর্তা হুগলির ভূমিপুত্র পার্থ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘গুপ্তিপাড়ার বিপুল সম্ভাবনা আছে। সেই নিরিখেই রাজ্যের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। কিছু পরিকাঠামো সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ যাওয়ার পথে আমরা কালনাতে পর্যটকদের নামাই। সেই তালিকায় আমরা গুপ্তিপাড়াকেও রাখতে চেয়েছি। রাজ্য সরকার সহযোগিতা করলে নতুন বছরের প্রথমদিকে গুপ্তিপাড়ার জেটিঘাটে বিদেশিদের নিয়ে ক্রুজ (জলযান) থামানো সম্ভব।’
একদা হুগলি উপনিবেশীয় সভ্যতার কারণে মিনি ইউরোপ বলে পরিচিত ছিল। পাশাপাশি হুগলির বিপুল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পদ আছে। সে সব নিয়ে বিদেশিদের বরাবরই প্রবল আগ্রহ। তা হাতিয়ার করে জলপথ পর্যটনের তালিকায় বলাগড়ের গুপ্তিপাড়াকে সংযুক্ত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল কলকাতা থেকে একাধিক ক্রুজে বিদেশিরা মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত ঘুরতে যান। শুধু জলপথেই ছ’মাসে প্রায় ছ’হাজার পর্যটক রাজ্যে ভ্রমণ করেন। সেখানে স্টপেজ হিসেবে গুপ্তিপাড়াকে রাখতে চাইছেন ট্যুর অপারেটরদের অনেকে।