নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এবার কি তাহলে প্রবাসী ভারতীয়দের দীর্ঘকালের আশা ও স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে? যে যার প্রবাসের ঠিকানায় বসেই দেশের ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন? নতুন কোনও জটিলতা তৈরি না হলে আগামী বছরের অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরলের বিধানসভা ভোটেই প্রবাসী ভারতীয় নাগরিকরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুবিধা পাবেন। বিভিন্ন রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি করে আসছিল। মূলত পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে রীতিমতো তালিকা জমা দিয়ে এই দাবি তুলেছে। সরকারিভাবে প্রবাসী ভারতীয়দের চারটি শ্রেণি বিভাগ। একটি অংশ ভিনদেশের নাগরিক, দ্বিতীয় অংশ ওইসব দেশের নাগরিকত্বের আবেদন করে অপেক্ষারত, তৃতীয় অংশ কর্ম অথবা শিক্ষাসূত্রে ভিনদেশের বাসিন্দা, কিন্তু তাদের নাগরিকত্ব ভারতের। এবং চতুর্থ প্রবাসীরা ভারতেরই বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত। তাদের কেউ আবার সেইসব রাজ্যের ভোটার। প্রধানত বিদেশে বাস করা ভারতীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটের দাবি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কারণ সর্বাগ্রে দরকার বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদন ও সবুজ সংকেত। বিদেশ মন্ত্রক সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের নীতিগত কোনও আপত্তি নেই। মন্ত্রক পোস্টাল ব্যালটের পক্ষপাতী। ই-ভোটের নয়। ২০২১ সালেও এই নিয়ে কমিশন এবং বিদেশ মন্ত্রকের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ই-ব্যালট আদৌ কতটা সুরক্ষিত এবং সঠিক, সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই এবার বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টই অভিমত দিয়েছে, তারা পোস্টাল ব্যালটের পক্ষে। সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে কমিশনকে। তারপর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। কেরলের রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, এবার সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। অর্থাৎ প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবে।



