


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেয়ার বাজারে দেশীয় লগ্নিকারীদের অংশীদারিত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি কমছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) লগ্নির হার। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া বা সেবির সদস্য (হোল টাইম) কমলেশচন্দ্র ভার্সনেই। তিনি বলেন, শেয়ার বাজারে যত বিনিয়োগ হয়, ২০২১ সালের মার্চ শেষে তার ২১.৪ শতাংশ দখলে রেখেছিল দেশীয় লগ্নি। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে সেই হার বেড়ে হয়েছে ২৫.৫ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি সংস্থাগুলি এখানকার শেয়ার বাজারগুলিতে মোট লগ্নির ২১.৫ শতাংশ দখলে রাখত ২০২১ সালের মার্চের হিসেব অনুযায়ী। গত মার্চে তা কমে ১৭.৫ শতাংশ হয়েছে। দেশীয় বিনিয়োগের একটা বড় অংশ যে খুচরো লগ্নি, তা আর বজার অপেক্ষা রাখে না। ওই সেবি কর্তা বলেন, খুচরো লগ্নিকারীদের স্বার্থরক্ষায় কঠোর নিয়ম বলবৎ করা হচ্ছে। এদিন তিনি বলেন, সমাজমাধ্যমে বহু সংস্থা বিনিয়োগ করার জন্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যাদের সেই এক্তিয়ারই নেই। সেইসব সংস্থায় সেখানে বিজ্ঞাপন দিতে পারে, যারা সেবি’র আওতাভুক্ত। এই ধরনের অবৈধ বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে মেটা’র সাহায্য নেবে সেবি। সাধারণত এই ধরনের সংস্থাগুলি চড়া রিটার্নের লোভ দেখিয়ে লগ্নিকারীদের বিপদে ফেলে।
এদিন সেবিকর্তা দাবি করেন, শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি জোগাড়ের প্রবণতাও বাড়ছে ভারতীয় সংস্থাগুলির একাংশের। তাঁর হিসেব, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রথমবার বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা মূলধন জোগাড় করেছে বিভিন্ন সংস্থা। চলতি অর্থবর্ষেও সেই অঙ্ক আশানুরূপ হবে বলে বলে দাবি তাঁর। সেবি কর্তা বলেন, গত অর্থবর্ষে প্রতিমাসে গড়ে ১৬টি সংস্থা প্রথমবার শেয়ার বিক্রির আবেদন করেছে এই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে। মাসপিছু আবেদন প্রসেসিং হয়েছে গড়ে ১৩টি। শুধুমাত্র গতমাসেই ২১টি আবেদন প্রসেস করা হয়েছে। চলতি মাসে আবেদনের সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০টি, জানিয়েছেন তিনি।