


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুকুটে শোভা পাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের জোড়া পদ। শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের দায়িত্বভার সামলানোর পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী তিনি। নামের আগে জ্বল জ্বল করছে ডক্টরেট ডিগ্রি। হ্যাঁ, ডঃ মনসুখ মাণ্ডব্য। শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিএইচডি হলেও তাঁর বিদ্যাবুদ্ধির ভাঁড়ার যে কত অসার, তার প্রমাণ মিলল মঙ্গলবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের সভায়। সাংবাদিক সম্মেলনে আইএসএল নিয়ে জট কাটার বার্তা দিতে গিয়ে রীতিমতো ঘোঁট পাকিয়ে বসলেন মন্ত্রীমহাশয়। দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী দুই ক্লাবের নামই উচ্চারণ করতে পারলেন না তিনি। তাও দেখে দেখে পড়তে গিয়ে! মোহন বাগানকে বললেন— মোহন বেগান। আর ইস্ট বেঙ্গলকে— ইস্ট বেগান। তারপর সংশোধিত উচ্চারণে ‘ইস্ট বেঙ্গাল’।
মনসুখ মাণ্ডব্যর ক্যারিকেচারের জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু হাসির রোলই ওঠেনি, তীব্র সমালোচনার ঝড়ও বইছে। কারণ শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব দু’টির ইতিহাস যে স্রেফ খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়! তাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। দুই প্রধান মানেই আবেগের বিস্তর উপাখ্যান। আবার ভারতীয় ফুটবলের পথপ্রদর্শক এবং অন্যতম ভিত্তি তারা। প্রশ্ন উঠছে, দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার পরেও কী ভাবে দেশের এমন দুই ঐতিহ্যশালী ফুটবল ক্লাবের নাম তিনি ভুল উচ্চারণ করেন? বাচনভঙ্গি দেখেও পরিষ্কার মনে হয়েছে যে, মোহন বাগান- ইস্ট বেঙ্গল নাম দু’টির সঙ্গে জীবনে প্রথমবার পরিচয় ঘটল তাঁর। বিষয়টি যতখানি বিস্ময়কর, ঠিক ততটাই দুর্ভাগ্যজনক।
এক্স হ্যান্ডলে জনৈক ফুটবলপ্রেমী লিখেছেন, ‘দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবের নামও ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারছেন না। এতেই দেশের ফুটবলের বর্তমান চিত্র প্রতিফলিত।’ আর এক ভক্ত লিখেছেন, ‘বিশ্বাসই করতে পারছি না। ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েও দেশের অন্যতম সেরা দুই ক্লাবের নামের সঙ্গে যথাযথ পরিচিত নন। চরম লজ্জা বললেও কম বলা হবে।’ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, ‘সাধে কী আর আন্তর্জাতিক মানচিত্রে ভারতীয় ফুটবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে!’
কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী দেখে পড়েও মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। জাতীয় ক্লাব মোহন বাগান, আর লড়াইয়ের নাম ইস্ট বেঙ্গল। অথচ এই নামগুলো তিনি জানেন না!’