Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাছ-ভাত খেয়ে ‘প্রতিবাদের ভোট’ ভোজনরসিক বাঙালির, লাইন মাংসের দোকানেও

সকাল সাড়ে ৯টা। এন্টালির কামারডাঙা গারদ বাজার। ভোটের দিন হলেও এই এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট খোলা। বসেছে বাজারও।

মাছ-ভাত খেয়ে ‘প্রতিবাদের ভোট’ ভোজনরসিক বাঙালির, লাইন মাংসের দোকানেও
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সকাল সাড়ে ৯টা। এন্টালির কামারডাঙা গারদ বাজার। ভোটের দিন হলেও এই এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট খোলা। বসেছে বাজারও। অন্যান্য দিনের মতোই চেনা ভিড় বাজারে। তবে সেই ভিড়ের মেজাজ অনেকটা আলাদা! যাঁরা সকাল সকাল বাজারে এসেছেন, তাঁদের একাংশ বাজারের ব্যাগ বাড়িতে রেখে বুথমুখো হয়েছে। আবার অনেকে আছেন, যাঁরা বাজার থেকে পছন্দের মাছ বা মাংস নিয়ে যাচ্ছেন। জমিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে যাবেন ভোট দিতে। বাজারে দাঁড়িয়ে এই প্রসঙ্গেই কথা হচ্ছিল মাঝবয়সি শংকর সেনগুপ্তের সঙ্গে। কথায় কথায় উঠে এল এবারের নির্বাচনি প্রচার যুদ্ধের ‘মাছ-ভাত’ ইস্যু। শংকরবাবু বলেন, ‘বাংলায় মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, আর আমরা প্রতিবাদ করব না! তাই আজই মাছ-ভাত খেয়ে ভোট দিতে যাব।’ 

Advertisement

এই বাজারের দীর্ঘদিনের মাছ বিক্রেতা সীমা দেবী বলছিলেন, ‘আজ বাজার বেশ ভালো ছিল। চিংড়ি, কাটা পোনা, রুই, কাতলা সবই এনেছিলাম। অন্য দিনের তুলনায় আগেভাগে শেষ হয়ে গিয়েছে। সামান্য কিছু মাছ পড়ে আছে এখন।’ একই কথা শোনা গেল এই বাজারের আর এক মাছ বিক্রেতা নেপাল নন্দীর গলায়। পাশে মাংসের দোকানেও তখন ৬-৭ জনের লাইন পড়ে গিয়েছে। 
ভোটের দিন অধিকাংশ অফিস-কাছারি ছুটি থাকায় বাড়িতে ভালোমন্দ রান্নার চল নতুন কিছু নয়। তবে এবার যেন রান্নার রেসিপিতেও মিশে ছিল রাজনীতির গন্ধ! যা স্পষ্ট হল দুপুর ১টা নাগাদ বেলেঘাটার সুরাকন্যা বিদ্যালয়ের সামনে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো সুবিনয় সাহার কথায়। তিনি এদিন তাঁর নিকটবর্তী বি সরকার বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনেছেন। সেখানে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। ভোটবাজারে বাঙালির মাছভাত ইস্যুতে সুবিনয়বাবু সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও বুঝিয়ে দেন, এবারের ভোটের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। সব পক্ষই মাছের প্রতি তাদের ভালোবাসা দেখাতে তৎপর ছিল। সুবিনয়বাবু বলে গেলেন, ‘দামটা সামান্য বেশি। তবে আজকের দিনে কেনাই যায়।’

সম্পর্কিত সংবাদ