অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। ছুটির দিনে স্টলের বাইরে যেন ঠাকুর দেখার লাইন। কিন্তু প্রতিবছরই বইমেলার ১ ও ২ নম্বর গেটের সংযোগস্থল একটু ‘নির্জন’। ওই গেটের দিকে যাঁরা স্টল পান, তাঁদের পাওনা কেবল দীর্ঘশ্বাস! অঞ্চলটি যেন ‘বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ’। সেই নির্জনতা কাটাতে এবার রদবদলের উদ্যোগ নিল পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। এবার ১ ও ২ নম্বর গেটের মুখে নিয়ে আসা হচ্ছে ফুডকোর্ট। মেলায় এসে বই কেনার পাশাপাশি জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া চলে। ফিশফ্রাই, কাবাব, খাসির চর্বি দেওয়া ঘুগনি থেকে মটন বিরিয়ানি সব থাকে তালিকায়। তারপর শেষ পাতে রসগোল্লা, নবদ্বীপের দই পর্যন্ত মেলে। ফুড কোর্টে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বসে খাওয়ার চেয়ার মিললে মনে হয় লটারির টিকিট মিলেছে। সেই খাবারের স্টলের কারণেই আর নির্জন থাকবে না মেলার ১ ও ২ নম্বর গেট। গিল্ডের এগজিকিউটিভ সদস্য সুদীপ্ত দে বলেন, ২ নম্বর গেটেই হবে মেট্রোর কিয়স্ক। সেখান থেকে মিলবে টিকিটও।
অপেক্ষার আর মাত্র ৭ দিন। ২২ জানুয়ারি বিকেলে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সল্টলেক করুণাময়ীর বইমেলা প্রাঙ্গণ এখন সেজে উঠছে। কাঠের উপর পেরেক পোঁতার শব্দ দিনভর ঠকঠক করছে। লিটল ম্যাগাজিন টেবিল মিলিয়ে ১ হাজারেরও বেশি বইয়ের স্টল বসছে। মেলায় গেট হচ্ছে ন’টি। প্রতিটি গেট দিয়েই প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা। ময়ূখ ভবনের উল্টোদিকে, সুইমিংপুলের পাশে বইমেলার ১ নম্বর গেট। তারপর করুণাময়ী মেট্রোর দিকে যেতে ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর গেট পড়ে। করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডের দিকে রয়েছে ৮ এবং ৯ নম্বর।
প্রতিবার ৩ থেকে ৯ নম্বর গেট ভিড়ে উপচে পড়ে। আর ১ ও ২ নম্বর গেট থাকে ‘মৃতপ্রায়’ অবস্থায়। খুব কম সংখ্যক মানুষ ১ নম্বর দিয়ে মেলায় প্রবেশ করেন। তাঁদের ধরে রাখার মতো আকর্ষণীয় কিছুই সেখানে তেমন থাকে না। এবার ফুড কোর্ট দিয়ে সেই এলাকায় ভিড় টানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইংরেজি বইয়ের প্যাভিলিয়নের পাশে যে ফুডকোর্ট করা হত তা ১ এবং ২ নম্বর গেটের মাঝখানে ত্রিকোণ অংশে হচ্ছে স্থানান্তর। সেখানে হবে ফুডকোর্ট-১। আর অন্যান্যবারের মতো ৯ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে বাঁদিকে যেখানে ফুডকোর্ট থাকে সেখানে হবে ফুডকোর্ট-২।
১ নম্বর গেটের পাশে রাজ্য মহিলা কমিশনের প্যাভিলয়ন হয়। ওই প্যাভিলিয়নের স্থান বদলের দাবি উঠেছিল। গিল্ডের দাবি, এবার মহিলা কমিশনের স্টলের একটু স্থান বদল হচ্ছে। কোণার দিক থেকে সরে গিয়ে প্যাভিলিয়নের দিকে ভিড়ের মুখ করা হচ্ছে। পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘১ ও ২ নম্বর গেটের মুখ ফাঁকা থাকত। তাই এবার সেখানে হবে ফুড কোর্ট। আর নির্জনতা থাকবে না। এবার গোটা মেলাতেই বইপ্রেমীদের প্লাবন নামবে।’