Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গে ফের বন্যার ভ্রুকুটি, মোকাবিলায় সক্রিয় নবান্ন

ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ধরে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গে ফের বন্যার  ভ্রুকুটি, মোকাবিলায় সক্রিয় নবান্ন
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ধরে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। পুরুলিয়ার পরগাতে ৩১৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বীরভূমের নানুর ও কীর্ণাহারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২০০ মিমির বেশি। পানাগড়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৯০ মিমি। দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা প্রভৃতি জেলার বেশ কয়েকটি জায়গাতেও বৃষ্টিপাত ১০০ মিমি ছাড়িয়েছে। আরও কয়েকটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় ১০০ মিমির কাছাকাছি বৃষ্টি হয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে দক্ষিণবঙ্গে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত নবান্ন। বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কী করণীয়? শুক্রবার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরুলিয়াসহ যেসব জেলায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হতে পারে সেখানে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরানোর নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

পুরুলিয়ার পাশাপাশি বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম প্রভৃতি জেলা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন চিন্তিত। কারণ এসব জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা আগেও জলমগ্ন হয়েছে। সেখানে নদীগুলিতে জলস্তর এমনিতেই বেশি ছিল। এবারের বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর আরও বাড়বে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল শহর বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই জলমগ্ন হয়ে আছে। এই দফায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাটালে ৯০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। সেচদপ্তর পাওয়া সূত্রে পরিসংখ্যান বলছে, ডিভিসির মাইথন (বরাকর নদী), পাঞ্চেত (দামোদর নদী) ছাড়াও ম্যাসাঞ্জোর (মূয়রাক্ষী নদী), মুকুটমণিপুর (কংসাবতী নদী), হিংলো (অজয় নদ), তেনুঘাট (দামোদর), চান্ডিল (সুবর্ণরেখা) প্রভৃতি বাঁধে জলস্তর সকালেই বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি ছিল। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় ১০০ মিমির বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সেখানেও নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে বইছে। জানিয়েছে সেচদপ্তর। শুক্রবার সকালের পর দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। আজ, শনিবার বৃষ্টির মাত্রা আরও কমবে বলে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন। তবে আজও দুই ২৪ পরগনা, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও পুরুলিয়া জেলার কোনও কোনও স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আরও একটা উদ্বেগের বিষয় হল, ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হতে পারে। ঝাড়খণ্ডের দামোদর এবং সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকা এলাকায় বেশি বৃষ্টি হলে তার প্রভাবে মাইথন-পাঞ্চেত, তেনুঘাট প্রভৃতি বাঁধ থেকে বেশি পরিামণে জল ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আগামী সোমবার নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে  তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে বেশি বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ