Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্গি আক্রমণ থেকে বন্যা, পাড়রষোড়ার মহামায়াই পরিত্রাতা

বর্গিদের হামলার মুখে দেবী দুর্গাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বন্যাতেও দেবীর কৃপাতেই বাসিন্দারা রক্ষা পান। এখানে দেবী চর্তুভুজা। মহিষাসুর সবুজ রংয়ের।

বর্গি আক্রমণ থেকে বন্যা, পাড়রষোড়ার মহামায়াই পরিত্রাতা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দ্রজিৎ রায়, কান্দি: বর্গিদের হামলার মুখে দেবী দুর্গাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বন্যাতেও দেবীর কৃপাতেই বাসিন্দারা রক্ষা পান। এখানে দেবী চর্তুভুজা। মহিষাসুর সবুজ রংয়ের। আগে শাক্ত মতে পুজো হলেও এখন হয় বৈষ্ণব মতে। গোটা পুজো প্রক্রিয়া চলে একমাস ধরে। জীমূতবাহনের পুজো দিয়ে শুরু হয়ে তা শেষ হয় বিসর্জনের আটদিনের মাথায়। তাই কান্দির পাড়রষোড়া গ্রামের প্রাচীন ঘোষবাড়ির পুজো আজও চর্চিত।

Advertisement

কান্দির রাজাবাবু কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ ওরফে লালাবাবুর সঙ্গে এই  পরিবারের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি। আনুমানিক ১১৬০ থেকে ১২০৬ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মথুরা থেকে ঘোষ পরিবার এখানে জমিদারি শুরু করেন। প্রথম জমিদার ছিলেন সানন্দ ঘোষ ও শ্রীমন্ত ঘোষ। জমিদার সানন্দ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর প্রচলন করেন বলে দাবি।
এখানকার দেবী পূজিত হন পঞ্চমুণ্ডির আসনে। একচালার দেবী এখানে চতুর্ভুজা। দু’পাশে থাকে লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও  কার্তিক। তবে এখানে মহিষাসুর সবুজ রংয়ের। এই পুজোর জৌলুস অনেক কমে গিয়েছে। আগের মতো মন্দিরে রংধনুর বেলজিয়াম কাচের ঝাড়বাতি জ্বলে না। মণ্ডপের চারপাশে জ্বলে না ঝাড়লণ্ঠন। তবে এই পুজো ঘিরে গ্রামের বাসিন্দারা উন্মাদনায় মাতোয়ারা হন।
পরিবারের কর্তা উজ্জ্বল ঘোষ জানান, জীমূতবাহনের পুজোর মাধ্যমে দেবীর পুজো শুরু হয়। শেষ হয় পুজোর আটদিন বাদে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কাঁধে করে দেবীকে রষোড়া দহে বিসর্জন করেন। সেখান থেকে আটদিনের মাথায় দেবীর কাঠামো তুলে এনে আটন পুজো দিয়ে এই পুজো শেষ হয়।
এদিকে,  পুজো ঘিরে আজও বহু লোককথা চালু রয়েছে। কথিত, বাংলায় বর্গি আক্রমণের সময় দেবী বাসিন্দাদের রক্ষা করেছিলেন। গ্রামের সবাই ওই সময় মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্গির দল হাজার চেষ্টা করেও মন্দিরের ত্রিসীমানায় ঢুকতে পারেনি। এছাড়াও বন্যায় দেবী বারবার বাসিন্দাদের রক্ষা করেছেন। 
পরিবারের এক সদস্যা মালতী ঘোষের কথায়, ১৯৭৮ ও ২০০০ সালের বন্যার সেই ছবি চোখে দেখা। চারিদিক ভেসে গেলেও মন্দির চত্বরে জল উঠেনি। গ্রামের মানুষ মন্দির চত্বরে ঢুকে নিরাপদে ছিলেন। পরিবারের অনুপম ঘোষ, শ্রুতি ঘোষরা জানান, জমিদারি আমলের সেই জৌলুস না থাকলেও গ্রামের মানুষ পুজো ঘিরে ভীষণ উৎসাহী। পুজোর ক’দিন গ্রামের প্রতিটি পরিবার নিমন্ত্রিত থাকেন কান্দির প্রাচীন পাড়রষোড়া গ্রামের ঘোষবাড়িতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ