নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে খোঁজ মিলল নতুন ধরনের ‘বাঙালি’ প্রাণীর! মৎস্যপ্রিয় বাঙালির মতো এই জলজ প্রাণী বা আইসোপড ফিশ ডায়েটে বেঁচে থাকে। তবে এরা গোটা মাছ খেয়ে ফেলতে পারে না। মাছের মুখে আটকে থেকে এটি শ্লেষ্মাঝিল্লি বা রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে। এদের কারণে বহু মাছ রক্তাল্পতার শিকারও হয়। একেবারে নতুন প্রজাতির এই প্রাণী একটি ভারতীয় নামও পেয়েছে। এদের খুঁজে বের করেছেন জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জেডএসআই) বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ‘লোবোথোরাক্স ভারত’ নামে চিহ্নিত করেছেন প্রাণীটিকে।
মাছের মুখে লেগে বেঁচে থাকা পরজীবী বা আইসোপড নতুন কিছু নয়। তবে এই প্রজাতিটি একেবারে আলাদা। ওড়িশার বালাসোর জেলার বাহাবলপুর মৎস্যবন্দর এবং গোপালপুর থেকে ফিতামাছের (ট্রাইচিউরাস লেপটুরস লিনিয়াস ১৭৫৮) মুখ থেকে ছ’টি আইসোপড সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাহ্যিকভাবেই অন্যান্য আইসোপডের চেয়ে এগুলির পৃথক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যেমন, এদের শোষক ম্যাক্সিলিপেডে তিনটি বাড়তি কাঁটা রয়েছে। প্রথম পেরেওনাইটে ছোট, চামচের মতো অ্যান্টেরোল্যাটারাল উপাঙ্গের উপস্থিতি এবং মাথার অংশের গঠনও আলাদা। ‘লোবোথোরাক্স ভারত’-এর সবচেয়ে কাছাকাছি আইসোপড হল ‘লোবোথোরাক্স ট্রাইপাস ব্লিকার, ১৮৫৭’। দু’টির জিন বিশ্লেষণ করেও এগুলির মধ্যে ২.৫ শতাংশ পার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘লোবোথোরাক্স ভারত’-কে পৃথক প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বিজ্ঞানীদের দলে ছিলেন জেডএসআইয়ের এসচুয়ারিন বায়োলজি রিজিওনাল সেন্টার, গোপালপুর অন সি এবং বেরহামপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। জয়কিশোর শেঠ, অনিল মহাপাত্র এবং বাসুদেব ত্রিপাঠি মিলিতভাবে এই গবেষণাদলকে নেতৃত্ব দেন। জেডএসআইয়ের অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই আবিষ্কার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর ফলে লোবোথোরাক্স আইসোপডের জীববৈচিত্র্যই যে শুধু বৃদ্ধি পেল তা নয়, বঙ্গোপসাগরের জটিল পরিবেশগত সম্পর্ককেও তুলে ধরা গেল।’