নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নামেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, আসলে সেগুলি ফাঁকা। কবে শেষবার সেগুলি ‘রিফিল’ করা হয়েছিল, কেউ জানে না। সিঁড়ির পাশে ‘ফায়ার হোস রিল’ গোটানো অবস্থায় থাকলেও সেসব শুধু লোক দেখানোর জন্য। কাজ করে না ফায়ার অ্যালার্ম। রবিবার হাওড়ার মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গোটা মঙ্গলাহাট জুড়েই বেহাল অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার ছবি কার্যত বেআব্রু হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত অব্যবস্থা দূর করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাইছে ব্যবসায়ী সমিতি।
গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ মঙ্গলাহাটের চারতলা মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ের উপরের তলায় একটি গোডাউনে আগুন লাগে। শর্ট সার্কিটের কারণেই এই আগুন বলে জানিয়েছে দমকল। দমকলের আটটি ইঞ্জিন প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক, খরিদ্দার মিলে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। চারতলার ওই গোডাউন থেকে আশপাশের অন্যান্য গোডাউন ও স্টলে আগুন ছড়িয়ে না পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও পদপিষ্টের মতো ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় গোটা মঙ্গলাহাট জুড়ে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কঙ্কালসার ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মডার্ন হাট, পোড়াহাট, ফ্যান্সি হাট সহ মঙ্গলাহাটে মোট বারোটি হাট বিল্ডিং রয়েছে। কিন্তু কোনও বিল্ডিংয়েই নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনও কোনও জায়গায় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থাকলেও সেগুলি ফাঁকা। মেয়াদ উত্তীর্ণ সেই ‘ফায়ার এক্সটিংগুইশার’গুলি শেষ কবে রিফিল করা হয়েছে, হলফ করে বলতে পারছেন না কেউই।
মঙ্গলবার দুপুরে মঙ্গলাহাটের চূড়ান্ত ব্যস্ততার দিনে মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুকে যে ছবিটা দেখা গেল, তা এক কথায় চরম উদ্বেগের। বিল্ডিংয়ের প্রতিটি তলায় সিঁড়ির পাশে ‘ফায়ার হোস রিল’ গোটানো অবস্থায় থাকলেও সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কাজ করে না বিল্ডিংয়ের স্মোক, হিট ও ফ্লেম ডিটেক্টর। ফায়ার অ্যালার্মের সেন্সরগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিল্ডিংজুড়ে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম থাকলেও সেসব কস্মিনকালেও কাজ করে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সিঁড়ির মুখে কার্যত উন্মুক্ত হয়ে ঝরঝরে অবস্থায় ঝুলছে বহু বছর পুরনো বিদ্যুৎবাহী তার। সিঁড়ির নীচেই জামা কাপড়ের বাক্স, কাগজ, প্লাস্টিক ডাঁই হয়ে পড়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মডার্ন হাট বিল্ডিংয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার স্টল চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, ‘গোটা মঙ্গলহাট জুড়েই এই অবস্থা। যেন জতুগৃহে বসে ব্যবসা করছি আমরা। রবি, সোম ও মঙ্গলবার বাদে সপ্তাহের অন্যান্য দিন হাটের বিল্ডিংগুলি বন্ধ অবস্থায় থাকে। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা হলে তা সামলানো যাবে না।’ তাই ফায়ার অডিট থেকে শুরু করে গোটা মঙ্গলাহাটের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সুষ্ঠু করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাইছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, ‘মর্ডান হাট বিল্ডিংয়ের ভিতরে থাকা পুরনো বিদ্যুৎবাহী তারের জঞ্জাল দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য বিল্ডিং মালিকদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলাহাটের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সচল করতে শীঘ্রই জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনায়
বসা হবে।’ নিজস্ব চিত্র